sristymultimedia.com

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


খুলনার ৬ জেলায় বাস ধর্মঘট, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

১১:১৮এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক : খুলনা বিভাগের পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ২য় দিনের মতো বাস ধর্মঘট চলছে। জেলাগুলো হলো- খুলনা, যশোর, নড়াইল, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এই ধর্মঘট চলায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই টানা এ ধর্মঘটকের ডাক দেন পরিবহন শ্রমিকরা।

যশোর:
যশোরের ১৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে। অনেক যাত্রী বাস স্ট্যান্ডে এসে ফিরে যাচ্ছেন। বাস চলাচল বন্ধ আছে ঝিনাইদহের সব রুটে। ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস বন্ধ থাকায় মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে করে চলাচল করছেন যাত্রীরা।

বাস চলাচল বন্ধ আছে, নড়াইলের বিভিন্ন রুটে। নতুন আইন কার্যকরের ঘোষণার পর চালকরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে স্থানীয় বাস শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে চালকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না চাকুরিজীবীসহ অন্যান্য সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। বাস চালকরা নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

মেহেরপুর:
মেহেরপুরে আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন চালকরা। ফলে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর মুজিবনগর সড়কে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

মেহেরপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চালকরা। তারা সড়ক পরিবহন আইনের বেশ কিছু ধারা সংশোধন চান। আগামী ২১ নভেম্বর পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসবেন। এ সভা থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

চুয়াডাঙ্গা:
নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট। আজ মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী কয়েকটি পরিবহন ছেড়ে গেলেও সেগুলো ঝিনাইদহ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে ইজিবাইক ও শ্যালোচালিত যানবাহনে। এই সুযোগে এসব যানবাহনে ভাড়া দ্বিগুণ নিচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

আন্দোলনরত চালকরা বলছেন, নতুন আইনে দুর্ঘটনার জন্য চালকদেরই দায় নিতে হচ্ছে। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। চালকরা কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে না। তারপরও তাদের শাস্তি হবে। এ আইন মেনে নেয়া যায় না। যার প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত শ্রমিকরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

মালিক নেতারা বলছেন, কঠোর আইন দেখে শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছে না। শ্রমিক নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, ফিটনেসবিহীন বাস মালিকরাই নামাতে চাইছেন না। কেউ কেউ বলছেন, শ্রমিকদের কাজে পাঠানো যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বৈঠক ডাকা হলেও তার আগে জট খোলার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, নতুন আইনটি নিয়ে শ্রমিকরা 'বিভ্রান্তিতে' আছে। আমরা ২১ তারিখ এবং ২২ তারিখ শ্রমিক ফেডারেশনের বৈঠক করব। সেখানে এগুলো নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। যে জায়গায় সংশোধন করা দরকার, সেটা করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি তুলব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু একবারও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে চালকদের দায়ী করেননি। সব দেশে আইন আছে, আমাদের দেশেও আইন থাকতে হবে। কিন্তু আইনটা যেহেতু সবার কাছে স্পষ্ট নয়, সেটা স্পষ্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে। আশা করি, সরকার দাবিগুলো বিবেচনা করবে।

বিজনেস আওয়ার/১৯ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

পিলার স্থাপন চলছে, দ্রুত বসবে কাঁটাতার
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়া তৈরির কাজ চলছে

উপরে