businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬


'বিএনপি সমুদ্রের মতো, কিছু পানি গড়িয়ে পড়লে ক্ষতি হবে না'

১০:৫৭এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র দুইজন নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। আরও কয়েকজনের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর মাঝে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলনসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে বিএনপিও নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

সার্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এক গণমাধ্যমকে দেয়া স্বাক্ষাতকারে বিএনপির দুইজন সিনিয়র নেতার পদত্যাগ ও আরও কয়েক নেতার দল ছাড়ার গুঞ্জনের ব্যাপারে কথা বলেছেন দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল।

তিনি বলেন, দেশে এখন স্বৈরশাসন চলছে। এ শাসনের অত্যাচার নির্যাতন অনেকে সইতে পারছেন না। সেজন্য অনেকে রাজনীতি থেকে সরে যেতে চাচ্ছেন। অনেকের মামলা আছে সেগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। সেজন্য দল ছাড়ছেন। এরকম যারা চলে যাবেন, যেতে পারেন। তাতে দলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

নেতাকর্মীরা স্বৈরশাসন মোকাবেলা করে টিকে আছে। চেয়ারপার্সন এই বয়সে জেল খাটছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসতে পারছেন না। প্রতিকূলতার মধ্যেই কিন্তু আমরা টিকে আছি। উনারা নানা রকম প্রেসারে দল ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিএনপি সমুদ্রের মতো, এখান থেকে কিছু পানি গড়িয়ে পড়লে ক্ষতি হবে না।

খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ব্যাপারে সোহেল বলেন, ম্যাডামের মুক্তি নিয়ে এমন অবস্থা তৈরি হবে এটা আমরা ভাবিনি। টোটাল বিচার প্রক্রিয়াটাই একটা সাজানো। এটা আমাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা জানি এর আগে দুই নেত্রী একসঙ্গে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। ভেবেছিলাম বর্তমানে যিনি ক্ষমতা ধরে আছেন, এ কাজে তিনি যাবেন না।

যারা ম্যডামকে জেলে পাঠিয়েছেন তাদেরও যে ভবিষ্যতে যেতে হবে এর তো নিশ্চয়তা নাই। ম্যাডামের জেলে যাওয়া মানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর জেলে যাওয়ার একটা অ্যারেজমেন্ট। এটা আওয়ামী লীগই করেছে। নিম্ন আদালতে নেত্রী বিচার পাবেন না সেটা বুঝি, কিন্তু উচ্চ আদালতে অনেক বিচারপতি রয়েছেন যারা ন্যায় বিচার করতে পারেন।

তারাও প্রেসারের মধ্যে থেকে ন্যায় বিচার করতে পারছেন না। এখনও যখন জামিন হলো না সেক্ষেত্রে আমরা আন্দোলনের কথা ভাবছি। যখন আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির আর রাস্তা থাকবে না তখন আমরা হার্ড লাইনে যাবো। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত দেবেন। উনাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মীরা।

আমাদের কর্মীদেরও ধৈর্যর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। নেত্রীর প্রতি কর্মীদের ফিলিংস অনেক বেশি। যখনই সংবাদ আসে, নেত্রী মারাত্মক অসুস্থ, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন তো কর্মীরা বসে থাকতে পারে না। এখন পর্যন্ত কর্মীরা নেতাদের নির্দেশ মানছেন। আশা করি যখন প্রয়োজন তখনই নির্দেশনাটা আসবে।

তিনি বলেন, সরকার যেভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে একটা জাতীয় ঐক্য দরকার। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই আন্দোলনে শরি করতে হবে। এই কনসেপ্ট থেকেই মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছিল। তবে ওই সময়টায় আমি জেলখানায় ছিলাম।

আশা ছিল ঐক্যফ্রন্ট সবাইকে এক করে বড় একটা কিছু করবেন। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেলেও সেরকম কোনো আন্দোলন ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। সামনের দিনগুলোতে হয়তো ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ড্রাইভ দেবেন। এই সরকারের হাত থেকে জনগণ মুক্তি চায়। একটি জাতীয় ঐক্যের প্রত্যাশা জনগণ করে। তবে আমরা এখনও হতাশ নই।

পাবলিক ইস্যুগুলো বিএনপি কাজে লাগাতে পারছে না বা জনগণের পক্ষ হয়ে কিছু করতে পারছে না- এমন প্রশ্নে সোহেল বলেন, আমরা একটা সাংগঠনিক প্রসেসের মধ্যে রয়েছি। হুট করে আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দিলে আমাদের এই কাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরও বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী জনমত তৈরি করতে পেরেছি।

ঘটনা তো প্রতিদিনই ঘটছে। প্রতিদিনই তো আর বড় মুভমেন্ট করা যায় না। একটা বড় মুভমেন্ট করতে গেলে সময় লাগে। পেঁয়াজ ইস্যু নিয়ে আমাদের নেতারা কথাবার্তা বলছেন, পত্রিকায় এসেছে। পাবলিক ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের কর্মসূচি থাকে না সেটা ঠিক না। সবকিছুই পাবলিক ইস্যু। আমরা ফ্রি-ফেয়ার ইলেকশনের জন্য আন্দোলন করছি।

সবচে বড় পাবলিক ইস্যু হলো মানুষ ভোট দিতে পারেনি। যেটা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার থাকলে অনেক পাবলিক ইস্যু সামনে আসে না। এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ইস্যু এসেছে, যার ফলে মানুষ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে।

একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জনগণ অনেক কিছু দেখে-বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। জনগণ যখন একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় তখন পরিণতি খুবই করুণ হয়। যে পরিণতি পরে যারা আসেন তাদের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকে। হয়তো আগামী দিনের পলিটিশিয়ানদের জন্যে শিক্ষা তৈরি করবে আওয়ামী লীগ।

বিজনেস আওয়ার/২০ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে