businesshour24.com

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬


আবারও ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালো পেঁয়াজ

১১:৪৩এএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : দেশে পেঁয়াজের সংকট কাটাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। মাঝে কয়েকটা দিন কিছুটা দাম কমলেও গত বুধবার থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। অবশেষে সোনার হরিণ খ্যাত পেঁয়াজ আবারও ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে।দামের এ উত্থান-পতনে ক্রেতাসাধারণের নাভিশ্বাস উঠেছে চরমে।

জানা গেছে, দুই দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে বৃহস্পতিবার কেজি প্রতি ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হলেও রোববার (২৪ নভেম্বর) এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে, খুচরা পর্যায়ে দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। খুচরায় মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৮০ টাকা, মিসর ও চায়নার পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

অন্য দিকে রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে গতকাল দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়, মিসরের পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১৪০টাকায়, চায়নার পেঁয়াজ ১০০ টাকায়, পাকিস্তান থেকে বিমানযোগে আসা পেঁয়াজ ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

রাজধানীর মতো পেঁয়াজের দাম সারাদেশেই বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ আরও বেশি পরিমাণে আসার পর দাম কমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বাজারে নতুন গাছ পেঁয়াজের সরবারহও দিনদিন বাড়ছে। তবে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার জন্য দাম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

মিরপুরের তৌসিফ আঞ্জুম বলেন, পেঁয়াজ তো কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছে না। গত বুধবার পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৬০ টাকা। দাম আরও কমবে এ আশায় আর পেঁয়াজ কেনা হয়নি। গতকালও বাজের সেই পেঁয়াজে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আজ তা আরও বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। জানিনা আবার আগামীকাল কি হবে।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পেঁয়াজের দাম কমে পুনরায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করেন তিনি। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন আশার কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ পুরোপুরি বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। এ ছাড়া ২৯ নভেম্বরের মধ্যে কম করে হলেও ১২ হাজার টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে।

এদিকে দামের অস্থিরতার কারণে কিছু দোকানি লোকসানের ভয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। আবার অনেক দোকানি জরিমানার ভয়ে পেঁয়াজ তুলছেন না। কোন কোন খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকানে রাখছেন স্বল্প পরিমান পেঁয়াজ।

জানা যায়, বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারের উদ্যোগে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ'র (টিসিবি) ট্রাকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতার ভিড় দিন দিন বেড়েই চলছে। রাজধানীতে গতকাল শনিবার হাজার হাজার কেজি পেঁয়াজ মাত্র কয়েক ঘণ্টায়ই বিক্রি শেষ হয়েছে।

তবে টিসিবি'র পেঁয়াজ ক্রেতারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম থাকায় অল্প সময়ই বিক্রি হচ্ছে টিসিবি'র পেঁয়াজ। তাই এই সঙ্কটের মুহুর্তে টিসিবির উচিৎ সরবারহ বাড়ানো।

এ ব্যাপারে শ্যামবাজার কৃষিপণ্য বণিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. মাজেদ বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ পেঁয়াজ আমদানি করছে, এই খবরে নিয়মিত আমদানিকারকরা আমদানি বাড়াননি। তাছাড়া আড়তে দেশি পেঁয়াজ নেই। উপরন্তু আমদানি করা পেঁয়াজও ফুরিয়ে আসছে বলে দাম বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পাকিস্তান থেকে কার্গো উগোজাহাজে করে ৮২ টনের পেঁয়াজের প্রথম চালান আসে। এর আমদানিকারক ঢাকার শাদ এন্টারপ্রাইজ। পেঁয়াজের সংকট কাটাতে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছে দেশের বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস. আলম গ্রুপ।

এ প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫৮ হাজার ৫০০ শত মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করছে বলে জানা যায়। এর মধ্যেই প্রায় ২০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে ১০টি কার্গো উড়োজাহাজ বুকিং নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে চাপ পড়ে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ থেকে ৪০ টাকার পেঁয়াজ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। সংকট কাটাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও শেষ পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

বিজনেস আওয়ার/২৪ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে