businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬


ছাত্রলীগের অপকর্ম কমলেও জটিলতা কমেনি

০২:৪৪পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : অপকর্ম করলেই বহিষ্কার- এমন নীতি গ্রহণ করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যার ফলে কমে এসেছে অপকর্মের মাত্রা। তাছাড়া 'প্রোটোকল ছাড়া চলা', মধুর ক্যান্টিনে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসা এবং গতানুগতিক জীবনযাপন করায় নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন জয়-লেখক।

তবে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বহিষ্কার না করা এবং কমিটির মেয়াদ দেড় বছরে পা দিলেও বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি না দেয়ায় জটিলতাও বেড়েছে ছাত্রলীগে। এতে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষপদ প্রত্যাশীরা। সংগঠনের এমন মন্থর গতিতে কার্যক্রম চালানোয় তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতারাও।

তাদের অভিযোগ, দেড় মাস দায়িত্ব গ্রহণের পরও কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাদের পদ দেয়া হয়েছে তাদের নামে চিঠিও পাঠানো হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা নতুন সম্মেলনের দাবি জানিয়েছেন।

গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেললে সভাপতি হিসেবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রাব্বানীকে মনোনীত করা হয়। কিন্তু দুর্নীতি, সরকারের বড় বড় প্রকল্পে চাঁদাবাজি এবং টাকার বিনিময়ে কমিটি দেয়াসহ নানা অপকর্মের দায়ে তাদের সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

তাদের অব্যাহতির পর নিয়মানুসারে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখক ভট্টাচার্য। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে আশার জোয়ার সৃষ্টি হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের ১১১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের মধ্যে ১০৮টি মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিটের সম্মেলন করলেও কমিটি হয়নি। চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠন করলে সেখানে বিতর্কিত ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এছাড়া নড়াইল জেলা কমিটি করলেও সেখানে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দিতে পারেননি জয়-লেখক।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, জেলা পর্যায়ে কমিটি দিতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও তাদের পরামর্শ নিয়ে করতে হয়। সেখানে আমাদের (ছাত্রলীগ) সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা হয়ে যাওয়ায় সম্মেলন করেনি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেয়া ছাত্রলীগের একটি ঐতিহ্য। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সম্মেলনের মাধ্যমে একত্রিত হতে পারে। সম্মেলন ছাড়া ছাত্রলীগের কমিটি করা দুঃখজনক।

নড়াইল জেলা কমিটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে প্রকাশ করা নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বলেন, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত কমিটির জেলা কমিটি করার ক্ষমতা নেই। নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের কমিটি মাশরাফি ভাই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে করেছেন। বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছে।

এদিকে ১০৮টি মেয়াদউত্তীর্ণ জেলা কমিটির ২৫-২৭টি কমিটি ৭-১০ বছর ধরে চলছে। এসব জেলায় কমিটি না হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আল নাহিয়ান খান বলেন, ১০৮টি কমিটির সবগুলোই আমরা করতে চাই। কিন্তু আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা চাইলেই দুজনের নাম উল্লেখ করে কমিটি দিতে পারি না। অনেক কিছু পর্যবেক্ষণ করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যেসব কমিটি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ সেসব কমিটি আগে করা হবে। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাত্রদের হাতেই থাকবে।

জেলা কমিটি করার বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, সামনে আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর আমরা ধীরে ধীরে সবগুলো কমিটি করার চেষ্টা করব। যেসব জেলা কমিটি বেশি পুরোনো সেগুলোতে আগে কমিটি করব। কোনো কমিটি বাদ থাকবে না।

বিজনেস আওয়ার/২৫ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে