businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬


বেড়েই চলেছে খেলাপি ঋণ

০৯:৫১পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের মধ্যেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে ব্যাংকগুলোতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। তবে তিন মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকায়।

সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ পুনঃতফসিলের (রিশিডিউলিং) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও ৯০ দিন সময় পাবেন আবেদনকারীরা। সূত্রমতে এই সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়মিত হয়েছেন অনেকে। তারপরেও এই খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘ঋণ আদায় না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ এখনও চলমান। আশা করি ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপির পরিমাণ কমে আসবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও মনে করেন, ‘ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে।’

তবে, ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ মার্চ ও জুনে খেলাপি ঋণ কিছুটা বাড়ে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বরে) কমে আসে। কিন্তু এবার বেড়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ছাড় দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের আগে অনেকে ঋণ পুনঃতফসিল করেছিলেন। এসব পুনঃতফসিল করা ঋণ এখন নতুন করে খেলাপি হয়ে পড়েছে। যে কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন প্রান্তিকের তুলনায় সেপ্টেম্বরে অর্থাৎ গত তিন মাসে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। বিশেষায়িত ব্যাংকে সামান্য কমেছে।

সেপ্টেম্বর ‘১৯ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল) ব্যাংকগুলোর খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা, যা জুন শেষে ছিল ৫৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৪ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। গত জুন শেষে ছিল ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯১ কোটি টাকা। জুন শেষে ছিল ২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হয়েছে, যা জুনে ছিল ৪ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা।

এদিকে, খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে ঋণ পুনঃতফসিল করার জন্য এ পর্যন্ত পাঁচবার আবেদনের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তা-ই নয়, ঋণ পুনঃতফসিল করা গ্রাহক যেন ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নিতে পারেন, সেজন্য নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ পুনঃতফসিলের পর ব্যাংক ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন করে ঋণ দিতে পারবেন। একইভাবে বিশেষ নিরীক্ষা ছাড়া টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদেরও ঋণ দেওয়া যাবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও এই সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের ঋণখেলাপিকে প্রথম এক বছর কোনও কিস্তিও দিতে হবে না। আর চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের গুনতে হবে ৯ শতাংশেরও কম সুদ।

বিজনেস আওয়ার/২৭ নভেম্বর, ২০১৯/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে