businesshour24.com

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬


এমপি লিটন হত্যায় কাদের খানসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড

১২:২১পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল কাদের খানসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আবদুল কাদের খান, তার ভাতিজা মেহেদি, পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আব্দুল হান্নান, ডিস ব্যবস্যায়ী শাহিন, রানা ও চন্দন কুমার রায়।

এদের মধ্যে চন্দন কুমার ভারতে পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামির মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কাঁদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদি, ডিস ব্যবস্যায়ী শাহীন ও রানা জেলা কারাগারে রয়েছেন।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন লিটন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করে লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল। তদন্ত শেষে কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া বাসা থেকে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আলোচিত এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তা শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। এ পর্যন্ত আদালতে মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রের আসামিদের মধ্যে সুবল চন্দ্র রায় মামলার বিচার চলাকালেই কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান। আর চন্দন কুমার রায় নামে এক আসামি পলাতক রয়েছেন। কাদের খানসহ বাকি ছয় আসামি বৃহস্পতিবার রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কলেজছাত্র ফাহিম মিয়ার (২১) মোবাইল ছিনতাই ঘটনার সূত্র ধরে গাইবান্ধার-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি (অব.) কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খাঁনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া চার খুনিকেও গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, লিটন হত্যার আগে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে সুন্দরগঞ্জ নতুন বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন ফাহিম মিয়া। রাতে নিজের মুরগির খামারের পাশে বসে থাকার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ফাহিম মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসে।

পরে তারা আলো জ্বালিয়ে একটি পিস্তল পড়ে থাকতে দেখেন, তাতে ছয়টি গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন ছিল। সেটি উদ্ধারের পর ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. সবুজ চৌধুরী সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান।

পুলিশ ফাহিমসহ স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে নানা তৎপরতা চালায় পুলিশ। পরে মোবাইল ফোনের আইএমইএ নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর ট্র্যাকিং করে পুলিশ জানতে পারে যে, গাইবান্ধা শহরের পুরাতন ব্রিজ রোড এলাকার মুজাহিদ নামে এক যুবক ফাহিমের ছিনতাই হওয়া ফোনটি ব্যবহার করছেন।

পরে মুজাহিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ২৫০০ টাকায় মোবাইলটি তার পরিচিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের রায়হানের কাছে থেকে কিনেছেন। এরপর রায়হানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি আনোয়ারুল ইসলাম রানার কাছ থেকে মোবাইলটি কেনার কথা স্বীকার করেন।

এরপর রানার পরিচয় সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর নানা দিক মাথায় রেখে তদন্ত চালিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তে এমপি লিটন হত্যায় রানা, মেহেদী ও শাহীনের অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের তিন জনের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে সাবেক এমপি কর্নেল আবদুল কাদের খাঁনের যোগসূত্র পাওয়া যায়।

বিজনেস আওয়ার/২৮ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে