businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬


প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ থেকে খালেকের অর্থ আত্মসাৎ

০৫:১৫পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: শেয়ার লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ থেকে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক এবং প্রাইম ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ খালেক। আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের অডিট রিপোর্টে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, এম. এ খালেক বিভিন্ন নামে-বেনামে ১১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ থেকে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে সরিয়েছেন। তিনি ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা অনুদান, ব্যবসার অন্যান্য খরচ ও সুদ খাতে সরিয়েছেন।

এছাড়া এম. এ খালেক ৩ কোটি ৮ লক্ষ টাকা অগ্রিম হিসাবে নিয়ে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে সমন্বয় ও আয়কর বাবদ অফিস খরচ দেখিয়ে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের অডিট রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, এম. এ খালেক প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের সিইও আবুল কালাম ইয়াজদানির নামে পি.এফ.আই প্রোপার্টিতে ফ্ল্যাটের বিপরীতে ৫০ লক্ষ টাকা গৃহঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। সুদ হিসাবে ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এম এ খালেকের ছেলে রুবাইয়াৎ খালেদের নামে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া এম. এ খালেক প্রাইম ইসলামী লাইফ, হজ্জ ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে ৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ঋণনিয়ে তা অগ্রিম হিসাবে সরিয়েছেন।

উল্লেখ্য এম. এ খালেক ইতিপূর্বে আত্মসাৎকৃত ৩০৫ কোটি টাকা পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ফেরত দিয়েছেন। এছাড়া ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সকে আত্মসাৎকৃত ৩৭৬ কোটি টাকা ইতিমধ্যে ফেরত দিয়েছেন।

প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশন থেকে ১৬৭ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। যা হুদা ভাসি চৌধুরী এন্ড কোং এর অডিট রিপোর্টে এসেছে। ফারইষ্ট ষ্টক এন্ড বন্ড থেকে প্রায় ১৮১ কোটি টাকা, পিএফআই প্রপার্টিজ লিমিটেডথেকে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

পিএফআই প্রপার্টিজ এ ফ্ল্যাট বুকিং এর নামে সাধারণ গ্রাহক থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে প্রতারণা মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড থেকেও ২৬০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ করেছেনএবং পিএফআই ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট থেকেও ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন খালেক।এই অর্থ আত্মসাতের কারণে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠিত লাভজনক প্রতিষ্ঠান বন্ধের দ্বার প্রান্তে চলে এসেছে। আর এই সব অনিয়মের কারণে প্রাইম ব্যাংকের সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান প্রতিটি প্রতিষ্ঠান হতে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে পিএফআই সিকিউরিটিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মুশফিকুর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। যা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক এম এ খালেক থেকে বুঝে নেয়া হয়েছে। তিনি এসব টাকা আত্বসাত করেছিলেন।

এছাড়া ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেমায়েত উল্লাহও এম এ খালেকের টাকা ফেরত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজনেস আওয়ার২৪.কমকে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু অর্থ ফেরত এসেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

এ বিষয়ে জানতে এম এ খালেকের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিজনেস আওয়ার/০৩ ডিসেম্বর, ২০১৯/এন/এস

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে