businesshour24.com

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৬

পিলার স্থাপন চলছে, দ্রুত বসবে কাঁটাতার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়া তৈরির কাজ চলছে

১০:৪১এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (কক্সবাজার): কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী, পালংখালী এলাকার ১১, ১২, ১৩ এবং ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলছে বেড়া তৈরির কাজ। আপাতত পাকা পিলার স্থাপনের কাজ চললেও কয়েকদিনের মধ্যে এসব পিলারে কাঁটাতার লাগানো হবে। কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

তদারকির দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, আপাতত শুধুমাত্র উখিয়া ক্যাম্পে পিলার স্থাপনের কাজ চালানো হচ্ছে। ১০ ফুট দূরত্বে এক একটি পিলার বসানো হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জনবল বাড়লে কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তখন পিলার স্থাপন ও কাঁটাতার লাগানোর কাজ একসঙ্গে চলবে।

সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক দাবি করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অপরাধপ্রবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা দেওয়া হলে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হবে। এছাড়াও বাইরের কোনো সন্ত্রাসীগোষ্ঠীও ক্যাম্পে প্রবেশ করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, বেশিরভাগ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পাহাড়ি এলাকায় এবং এসব ক্যাম্প কাঁটাতারে ঘেরা না থাকায় অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ শেষ হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হবে।

কাঁটাতারের বেড়ার বিষয়ে উখিয়ার বালুখালী ১২ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, আমি মনে করি কাঁটাতারের ছিকল দেওয়া হলে ক্যাম্পের নিরাপত্তা আরও বাড়বে। এটাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কাঁটাতারের বেড়া দিলে আমাদের জন্য আরো সুবিধা হবে।

একই ক্যাম্পের মো. ইদ্রিস বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আছি সরকার যেটা করবে এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সরকারের সুবিধার জন্য এটা দেওয়া হচ্ছে, এতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এর সেক্রেটারি মো. ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, সরকারের সিদ্বান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কারণে রোহিঙ্গারা যেমন বাইরে যেতে পারবে না, তেমনি বাইরের কোনো খারাপ মানুষও ক্যাম্পে ঢুকতে পারবে না।

তবে এ বিষয়ে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যাদের বাড়িঘর ভেতরে পড়ে গেছে। তাদের দাবি ওই এলাকার কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে অন্যত্র সরিয়ে স্থানীয়দের বাড়িঘর বাইরে রেখে কাঁটাতারের ঘেরা দেওয়া হউক।

এ ব্যাপারে উখিয়ার থাইনখালী চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. তোফাইল বলেন, এমনিতেই রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ। এ অবস্থায় কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে যদি আমাদের বাড়িঘর ঢুকে যায়, ভবিষ্যতে আমাদের নানামুখি সমস্যা পোহাতে হবে। এছাড়া আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে হুমকির মুখে পড়বো।

মনজুরা নামে আরেক নারী বলেন, আগে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারতাম, এখন পারবো না। কাঁটাতারের ভেতরে বাড়িঘর ঢুকে গেলে আমাদেরকেও রোহিঙ্গাদের মতো চলাফেরা করতে হবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া কীভাবে করবে।

তিনি বলেন, আমি দশ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। ১১, ১২ ও ১৯ এ তিনটি ক্যাম্পে প্রায় এক হাজার স্থানীয় পরিবার আছে। যেগুলো কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। আমাদের দাবি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভেতরে যেসব রোহিঙ্গারা আছে তাদের সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হউক এবং স্থানীয়দের কাঁটাতারের বাইরে রেখে ঘেরা দেওয়া হউক।

আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আমরা নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। তাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দিলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য খুবই ভালো, এটা আমরা চাই। কিন্তু আমার এই পাকা বাড়িটি ভেতরে পড়ে যাচ্ছে, শুধু আমারটা নয়, এরকম প্রায় ৭শ বাড়িঘরের লোকজন এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেক ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। যার মধ্যে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও জঙ্গিবাদের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে এসব সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠী যাতে দেশের ভেতর ঢুকে কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য কাঁটাতারের বেড়া বড় ভূমিকা রাখবে।

বিজনেস আওয়ার/১১ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি
শাহবাগে ফের বিক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি

উপরে