businesshour24.com

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬


রাখাইনের হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান হলে, কতজন মানুষ সন্ত্রাসী!

০৪:৩০পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা অভিযোগের শেষদিনে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে হেগে। এতে ওআইসির পক্ষে বাদী গাম্বিয়ার আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছেন। গত দু’দিনে গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের বক্তব্যের ওপর আজ শেষ দিনে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি তুলে ধরছেন আইনজীবীরা। এদিন শুরুতে বক্তব্য রাখেন গাম্বিয়ার আইনজীবী পল রাইখলা। রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতার মর্মস্পশী বর্ণনা তুলে ধরেন। কিভাবে নারী, শিশুদের হত্যা করেছে সেনাবাহিনী, ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তার বর্ণনা দেন তিনি।

এ সময় তিনি মিয়ানমারের যুক্তি খন্ডন করেন। বলেন, মিয়ানমার দাবি করেছে রাখাইনে ছিল তাদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান।

কিন্তু ভয়াবহতা ও তার শিকার মানুষের সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন করেন, যদি তাই হয় তাহলে কতজন মানুষ সন্ত্রাসী? রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রাখাইনে গণহত্যা হয়েছে এ কথা প্রমাণ করতে তিনি রাখাইনে সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, ২০১৭ সালে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরুর দুই সপ্তাহ আগে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করা হয়। তখন বলা হয়, বাঙালি সমস্যার সমাধান করা হবে। এ সময় ডিসপ্লেতে ওই সেনা মোতায়েনের ছবি দেখানো হয়।

আইনজীবী পল রাইখলা বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘাতকে গণহত্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যায় না। ওই অভিযানে প্রতিজন মানুষকে টার্গেট করা হয়েছিল। নারী, শিশু, পুরুষ কেউ রক্ষা পায় নি। মিয়ানমার গণকবরের কথা অস্বীকার করেছে। তিনি এ যুক্তি খন্ডন করে বলেন, কমপক্ষে ৫টি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি বলে জাতিসংঘ সব অন্যদের দেয়া রিপোর্ট উদ্ধৃত করেন তিনি। বলেন, মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়ে নিশ্চয়তা মেলেনি এখনও এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

বিজনেস আওয়ার/১২ ডিসেম্বর, ২০১৯/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে