businesshour24.com

ঢাকা, সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৬


শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

০১:১৭পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : আজ (১৪ ডিসেম্বর) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। রাজধানীর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার জনতা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে জনতার ঢল নামে।

শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও। শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সন্তান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনতার স্রোত। লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বাংলার সূর্য সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে জাতি।

শহীদদের স্মরণ করার পর সাধারণ মানুষদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা স্বপ্ন দেখছেন একটি আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। তারা বলছেন, এবার আর আক্ষেপ নয়, পেছনে তাকানো নয়, এখন সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যারা এসেছেন তারা বলেন, দেশের প্রতি ত্যাগের মাধ্যমেই বড় হওয়া যায়, এটাই তারা শিখিয়েছেন। স্বাধীনতার এতদিন পরও আমরা রাজাকারমুক্ত হতে পরিনি। এখন আমাদের রাজাকারমুক্ত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

অনেকেই বলছেন, সেদিনের এই হত্যাকাণ্ড এই দেশের প্রজন্মকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। তবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ঠাঁই মানুষের হৃদয়ে, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়।জাতি সব সময় তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

উল্লেখ্য, বাঙালি জাতির জীবনে ১৪ ডিসেম্বর একটি কলঙ্কের দিন। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিধনের মর্মন্তুদ স্মৃতিঘেরা বেদনাবিধুর দিন আজ। বাঙালির মেধা-মনন-মনীষা শক্তি হারানোর দিন আজ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ৯ মাস রক্তগঙ্গা পেরিয়ে গোটা জাতি যখন উদয়ের পথে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়ই রাতের আঁধারে পরাজয়ের গ্লানিমাখা পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা করে।

বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে এই দিনে দেশকে মেধাশূন্য করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির সেরা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীসহ দেশের বরেণ্য কৃতী সন্তানদের।

১৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে 'পূর্ব বাংলা' নামে পাকিস্তানের প্রদেশটি মাত্র স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ঠিক সে সময় ঢাকাসহ দেশের সব বড় শহরের চিহ্নিত জ্ঞানী ও গুনী মানুষদের বাড়ির দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ করে জানতে চাওয়া হয় "ভেতরে কেউ আছেন?" ডাকে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে আসেন নাম জানা-অজানা অনেকেই।

সশস্ত্র পাকিস্তানি হায়েনারা একে একে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী-সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। সেদিন হায়েনাদের সাথে বেরিয়ে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত তারা আর ঘরে ফেরেনি।

সবকটি জানালা খুলে রেখেও হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর জন্য স্বজনদের ফেরার অপেক্ষা আজও শেষ হয়নি। তবে তারা আসবেন কিভাবে? তারা যে এ মাটির চির মমতা অঙ্গে মেখে অনিচ্ছাকৃত চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর বধ্যভূমির মতো চিহ্নিত কসাইখানায়।

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছর দেশ ও জাতি ১৪ ডিসেম্বর হারিয়ে যাওয়া বীরদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রায়েরবাজার বধ্যভূমি তথা শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। এদিন সকাল থেকে নিহতের স্বজনসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অঙ্গ সংগঠন, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিজনেস আওয়ার/১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

সিএএ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী
'বুঝতে পারছি না কেন ভারত এটা করল'

নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি
শাহবাগে ফের বিক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি

উপরে