ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬


তিন মাসে খেলাপি ঋণ নবায়ন হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা

১০:৫৩এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ খেলাপি ঋণ নবায়নে চাপ বাড়ছে ব্যাংকের ওপর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্ট ছাড়া আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হচ্ছে। নিয়মনীতির মধ্যে না পারলেও প্রভাবশালীদের প্রভাবে ব্যাংকও বাধ্য হচ্ছে ঋণ নবায়নের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ নবায়ন হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাব গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের। এর মধ্যে সর্বাধিক ঋণ নবায়ন করেছে রাষ্ট্র খাতের জনতা ব্যাংক ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা, বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক (আইবিবিএল) ২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংক ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। বলা চলে এ তিন ব্যাংকই ঋণ নবায়ন করেছে মোট নবায়নের অর্ধেকের বেশি; অর্থাৎ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ নবায়ন তিনগুণ ছেড়ে যেতে পারে।

খেলাপি ঋণ নবায়নের নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ প্রথমবার খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে চাইলে তাকে মোট খেলাপি ঋণের ১৫ শতাংশ অথবা মোট মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের ১০ শতাংশ এ দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ অর্থ এককালীন নগদে (ডাউন পেমেন্ট) পরিশোধ করে ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। আবার দ্বিতীয়বার একই খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে চাইলে এককালীন ২০ শতাংশ এবং তৃতীয়বার নবায়ন করতে চাইলে এককালীন ৩০ শতাংশ পরিশোধ করার বিধান রয়েছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নীতিমালা কেউ অনুসরণ করেন না; বরং নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ নবায়ন করতে হয়। আবার প্রভাবশালী হলে ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ নবায়ন করতে হয়। এভাবে ব্যাংকে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলছে।

এ দিকে গত ডিসেম্বরের আগে যেসব খেলাপি ঋণ মন্দ মানের খেলাপি ঋণ পরিণত হয়েছিল ওইসব ঋণ মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রথমে উচ্চ আদালতে এর বিপক্ষে রিট করায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই সুযোগে তেমন কেউ ঋণ নবায়ন করতে পারেনি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের পর থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ব্যাপক ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ নবায়নের আবেদন পড়েছে। এর ফলে গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের চেয়ে তিনগুণ খেলাপি ঋণ নবায়ন হবে ডিসেম্বর প্রান্তিকে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণ নবায়ন বেড়ে যাওয়ায় নগদ আদায় অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। এতে বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর।

ঋণ নবায়নের সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন মাসে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ঋণ নবায়ন করেছে ২ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা একাই ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা, সমস্যাকবলিত বেসিক ব্যাংক ৪৬৬ কোটি টাকা, অগ্রণী ৩৬ কোটি টাকা, রূপালী ৮৬ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক ঋণ নবায়ন করেছে ২৩ কোটি টাকা।

এ দিকে তিন মাসে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ নবায়ন করেছে ৭ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সর্বাধিক নবায়ন করেছে ইসলামী ব্যাংক ২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, নতুন প্রজন্মের সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ৪২১ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া ৩৪৯ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক ৩২৬ কোটি টাকা, সাবেক ফার্মার্স বর্তমান পদ্মা ব্যাংক ৩২২ কোটি টাকা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ২৮৭ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংক ২৩৭ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক ২৩৩ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ১৬৬ কোটি টাকা ও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ১২৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করেছে। তবে আলোচ্য তিন মাসে কোনো বিদেশী ব্যাংক বা বিশেষায়িত ব্যাংক খেলাপি ঋণ নবায়ন করেনি।

বিজনেস আওয়ার/২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে