ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬


যে কারণে আতিকুলেই আস্থা আ. লীগের

০২:৩৫পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রথম নির্বাচিত মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম। নির্বাচিত হওয়ার ১০ মাসের মধ্যে তিনি উল্লেখযোগ্য কোনও কিছু পরিবর্তন ঘটনাতে না পারলেও মাঠে কার্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সঙ্গে।

যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই সাথে কথা-বার্তায় অনেকটা কৌশলী আতিকুল ইসলামের কোনও কাজই বিতর্কের জন্ম দেয়নি। আর এ কারণেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উত্তর সিটির মেয়র পদে তার ওপরেই আস্থা রেখেছে। আওয়ামী লীগের কোনও পদে না থাকা আতিকের হিসাব কিছুটা ভিন্ন বলে মনে করে কেউ কেউ।

তাদের দাবি, উত্তর সিটির মেয়র পদটি আওয়ামী লীগের কাছে কিছুটা ব্যতিক্রম। যে কারণে সিটি কর্পোরেশোন বিভক্তির পর থেকেই ডিএনসিসির মেয়র পদে দলীয় নেতাদের বাইরে ভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ রেখেছে ক্ষমতাসীন দল। আর এ কারণেই প্রথমে আনিসুল হক, পরে তার 'উত্তরসূরি' আতিকুল ইসলাম মনোনয়ন পেয়েছেন।

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে উত্তর সিটিতে ডেঙ্গুবিরোধী নানা কর্মসূচি পরিচলনা করেন আতিকুল ইসলাম। যদিও সেসব কর্মসূচি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তেমন একটা সফল না হলেও বিতর্কের জন্ম দেয়নি। গণমাধ্যমের সামনেও তিনি কথা বলেছেন অনেকটা কৌশলে।

পাশাপাশি সময় কাটিয়েছেন ব্যস্ততার মধ্যে। চেষ্টা করেছেন সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও সচেতন করতে। গত ১০ মাসে কিছুটা ইতিবাচক কার্মকাণ্ড দেখাতে সক্ষম হয়েছেন আতিক। এসব কারণে মেয়র পদে ফের তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি, এখনও মেয়র হিসেবে আতিকুল ইসলামের মূল্যায়ন করার সময় আসেনি। তিনি পর্যাপ্ত সময় পাননি। তবে যেটুকু সময় তিনি পেয়েছেন, তাতে দৃশ্যমান কোনও কাজ করতে না পারলেও অ্যাক্টিভ ছিলেন তিনি। এছাড়া, উত্তর সিটিতে তার বিপরীতে শক্ত কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি।

মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি মোবাশ্বর হোসেন বলেন, আতিকুল ইসলাম যে সময় পেয়েছেন সেই সময়ে তিনি অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তিনি বেশি কাজ দেখাতে না পারলেও কাজ করার চেষ্টা করেছেন। সে বিবেচনায় হয়তো আওয়ামী লীগ তাকে আবারও পছন্দ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেন, আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কোনও কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ নেই। তাছাড়া, তিনি পর্যাপ্ত সময়ও পাননি। এসব কারণেই তাকে আরও একটি টার্মের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় কলেজ শিক্ষার্থী রাজিব-দিয়ার মৃত্যুর পর গত ১৯ মার্চ সুপ্রভাত পরিবহনের বাস চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরী নিহত হন। ওই ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবারও শুরু হয় ছাত্রআন্দোলন।

তখন মেয়র আতিকুল ইসলাম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দুটি বিষয় মোকাবিলা করেন। এছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতির সময় চিরুনি অভিযান ও ধুলা দূষণে দৃশ্যমাণ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নজর কেড়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক জয় লাভ করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যুতে মেয়রের আসনটি শূন্য হয়। পরে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম।

বিজনেস আওয়ার/২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে