businesshour24.com

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬

ফিরে দেখা ২০১৯

নানা কার্যকরি সংস্কারেও থামেনি পতন

১০:২০পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯

রেজোয়ান আহমেদ :চলতি বছরে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে নানা কার্যকরি সংস্কার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে এই সংস্কারের পেছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। যারা শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বছরজুড়েই নানা সংস্কারের জন্য বিএসইসিতে দাবি জানিয়েছেন। আর বিএসইসি তাদের সেইসব দাবি পূরন করেছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে উন্নয়নে অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। তারপরেও শেয়ারবাজারে পতন থামেনি।

দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে চলতি বছরে প্লেসমেন্ট শেয়ার, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, লেনদেনের প্রথমদিন সার্কিট ব্রেকার, বোনাস শেয়ার, উদ্যোক্তা/পরিচালকদের সর্বনিম্ন শেয়ার ধারন, আইপিও রিভিউ টিম গঠনসহ নানা বিষয়ে সংস্কার করা হয়। তারপরেও শেয়ারবাজারে পতন থামেনি। এখনো দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৩০০ কোটির আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর মূল্যসূচক নেমে গেছে সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে। যা বিগত সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে।

শেয়ারবাজারে চলতি বছরে ধসের পেছনে বিটিআরসি ও গ্রামীণফোনের দ্বন্ধকে মূল কারণ হিসাবে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন ক্যা‌পিটাল মা‌র্কেট জার্না‌লিস্টস ফোরা‌মের ‌(সিএম‌জেএফ) অফিস ও ওয়েবসাইট উদ্ধোধনকালে বলেন, গ্রামীণফোনের সাথে বিটিআরসির যে একটা ঝামেলা শুরু হয়, এতে শুধুমাত্র গ্রামীণফোনের ক্ষতি হয়নি। পুরো শেয়ারবাজারের কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। কারণ বিদেশিরা যখন আসে তখন ফান্ডামেন্টাল শেয়ার দেখে। তারা গ্রামীণফোনের পাশাপাশি অলিম্পিক, ইউনাইটেড পাওয়ার, বিএটিবিসি এবং স্কয়ার ফার্মার শেয়ার কেনে। আর বিটিআরসি ও গ্রামীণফোনের দ্বন্ধের কারনে সবগুলোতেই বিক্রি করেছে। শুধুমাত্র গ্রামীণফোন আর বিএটিবিসি বিক্রি করার ফলে বিগত দুই মাসে ১৭৪ পয়েন্ট পরেছে। স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার, বিএটিবিসি এবং অলিম্পিক এই ৫টি কোম্পানি মার্কেট পতনের জন্য ৮০ শতাংশই দায়ী।'

চলতি বছরের শুরুর দিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্লেসমেন্ট নিয়ে উত্তাল হয় শেয়ারবাজার। এতে শেয়ারবাজার থেকে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে বলে ডিএসই দাবি তুলে। যা শেয়ারবাজারের অন্তরায়। তাই বিষয়টি সমাধানে কমিশনে প্রস্তাব করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর আলোকে কমিশন প্লেসমেন্টের লাগাম টানতে লক-ইন বাড়ায়।

এরপরে বুক বিল্ডিংয়ে পরিবর্তন, পরিচালকদের পৃথকভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শেয়ার ধারন কড়াকড়ি আরোপ, ঘোষণা ছাড়াই উদ্যোক্তা/পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির রাস্তা বন্ধ, সেকেন্ডারিতে স্বল্প শেয়ারের কারনে কারসাজিরোধে আইপিওতে ফিক্সড প্রাইস মেথডে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা ও বুক বিল্ডিং মেথডে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা, ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির উন্নয়নে কমিটি গঠন, লেনদেনের প্রথমদিন সার্কিট ব্রেকার আরোপ, স্মল ক্যাপ মার্কেট গঠন, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বিধিমালা প্রণয়ন, কাস্টমার কমপ্লেইন্ট অ্যাড্রেস মডিউল চালু, ফান্ডের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) বাতিল ইত্যাদি সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বিএসইসির পাশাপাশি শেয়ারবাজারকে সহযোগিতার জন্য অর্থমন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রণোদনা স্কীমের আওতায় আদায়কৃত (সুদ ও আসল) ৮৫৬ কোটি টাকা পুণ:ব্যবহারের অর্থাৎ আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সম্মতি দিয়েছে। আর তারল্য সংকট কাটিয়ে তুলতে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে অতালিকাভুক্ত ( ইক্যুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল প্রিফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল বন্ড, ডিবেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড) সিকিউরিটিজকে বাদ দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য মুনাফার সর্বনিম্ন অংশ ও নগদ লভ্যাংশে প্রদানে উৎসাহি করা হয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, নানা সংস্কারের পরেও প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসছে না। এর পেছনে কারন হিসাবে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের দুরাবস্থায় সৃষ্ট তারল্য সংকট। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি। আর জিডিপির যে প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবে সামঞ্জস্য না থাকায় অনেকে হতাশায় ভুগছেন। কেউ কেউ ভাবছেন দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন....
শেয়ারবাজার থেকে ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অর্থ সংগ্রহ

শেয়ারবাজারের চলমান পতনে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির সংস্কারের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে কমিশন। গত ১১ এপ্রিল ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১ বছর বা এর বেশি সময় ধরে অবস্থানরত কোম্পানিগুলোর বিষয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কমিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরি নিয়ে ২০০২ সালে জারিকৃত নোটিফিকেশন এর উপর আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। ২০০২ সালের নোটিফিকেশন অনুযায়ি, ১ বছর বা এর বেশি সময় ধরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বিশেষ সাধারন সভার (ইজিএম) মাধ্যমে পূণর্গঠিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিষয়টি আইনে থাকলেও বাস্তবে নিস্ক্রিয় রয়েছে। সেটিই সক্রিয় করার লক্ষ্যে কমিশন কমিটি গঠন করেছে।

গত ২৯ এপ্রিল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বিতর্কিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পূর্ব প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যু (ক্যাপিটাল রেইজিং) নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামিতে বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে প্লেসমেন্টে কোন শেয়ার ইস্যু করার সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে আইপিওকালীন সকল শেয়ারে লক-ইন বাড়ানোর ঘোষণা দেন। যা প্রসপেক্টাসের সংক্ষিপ্ত সংস্করন প্রকাশের দিনের পরিবর্তে লেনদেন শুরুর দিন থেকে গণনা করা হবে। এছাড়া আইপিওতে ফিক্সড প্রাইস মেথডে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা ও বুক বিল্ডিং মেথডে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করতে হবে।

এরপরের দিনই (৩০ এপ্রিল) অতালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য প্রাইভেট প্লেসমেন্টে অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। একইসঙ্গে পাবলিক ইস্যু রুল সংশোধন হওয়ার আগে নতুন করে আর কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ২ মে শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রণোদনা স্কীমের আওতায় আদায়কৃত (সুদ ও আসল) ৮৫৬ কোটি টাকা পুণ:ব্যবহারের অর্থাৎ আবার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সম্মতি দেয় অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। যে টাকা এরইমধ্যে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে পাঠানো হয়েছে। যা সহজ শর্তে ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরন করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের আলোকে গত ১৪ মে উদ্যোক্তা/পরিচালক ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। বিএসইসি জানায়, এখন থেকে তালিকাভূক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক, প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তাদের ইউনিট সিডিবিএল’র ব্লক মডিউল ব্যবহার করে ব্লক করে রাখবে। যাতে ব্লক করা শেয়ার ও ইউনিট বিও একাউন্ট থেকে স্থানান্তর করা না যায়। শেয়ারহোল্ডাররা এবং ইউনিটহোল্ডাররা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রয়োজনীয় ঘোষণা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর প্রদানের পর স্টক এক্সচেঞ্জ ওই শেয়ার’র ব্লক প্রত্যাহার করতে পারবে। ব্লক প্রত্যাহার হওয়ার পরে শেয়ার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন করা যাবে। ব্লক মডিউল যাতে সহজেই ব্যবহার করা যায়, সে জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কমিশনের নির্দেশে সিডিবিএল ইতিমধ্যে তালিকাভূক্ত কোম্পানি, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে বিএসইসি থেকে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত বিনিয়োমসীমা সমাধানে গত ১৬ মে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এলক্ষ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা থেকে অতালিকাভুক্ত ( ইক্যুইটি শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল প্রিফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টঅ্যাবল বন্ড, ডিবেঞ্চার, ওপেন-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড) সিকিউরিটিজকে বাদ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাতে শেয়ারবাজারে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো যাবে।

গত ২১ মে পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ ও পৃথকভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারন ও বোনাস শেয়ার নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে বিএসইসি। ওইদিন বিএসইসি জানায়, স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যতিত অন্যসব উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন ছাড়া সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বোনাস শেয়ারসহ কোনভাবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো যাবে না। আর ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন ছাড়া কোন পরিচালক এবং উদ্যোক্তা ওই কোম্পানির শেয়ার বিক্রয় বা হস্তান্তর বা বন্ধক রাখতে পারবে না। একইসঙ্গে কোন পরিচালকের ২ শতাংশ শেয়ার ধারনে ব্যর্থতার কারনে শূণ্য পদে ২ শতাংশ শেয়ার ধারন করে এমন শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য হতে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূরণ করতে হবে।

এদিকে আগামিতে কোম্পানির সম্প্রসারণ, সুষমকরন, আধুনীকরন, পুন:গঠন ও বিস্তার (বিএমআরই) এবং গুণগতমান উন্নয়ন ব্যতিত বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা যাবে না বলেও ২১ মে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বোনাস শেয়ার ঘোষণার নিয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশের সময় বোনাস শেয়ার ঘোষণার কারন এবং এর বিপরীতে রেখে দেওয়া মুনাফা কোথায় ব্যবহার করা হবে, তা উল্লেখ করতে হবে।

কমিশন বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সাধারন বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়। অন্যদিকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ এবং সাধারন বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়।

২৯ জুন সংসদে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানির নির্দিষ্ট বছরের মুনাফার ৭০ শতাংশের বেশি রিটেইন আর্নিংস, রিজার্ভ বা সারপ্লাস হিসাবে রাখলে, তার উপরে ১০ শতাংশ হারে কর দেওয়ার সংশোধিত প্রস্তাব করা হয়। অর্থাৎ ৭০ শতাংশের বেশি রিজার্ভে রাখার ক্ষেত্রে, পুরো অংশের উপরে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট বছরে নগদ লভ্যাংশের থেকে বেশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা বা বিতরন করলে, তার উপরে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর নগদ লভ্যাংশ না দিলেও বোনাস শেয়ারের উপরে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

প্লেসমেন্ট শেয়ার বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পূর্ব ইস্যুকৃত শেয়ারে লক-ইন ২ বছর করে পাবলিক ইস্যু রুলসের সংশোধনীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যা প্রসপেক্টাসের সংক্ষিপ্ত সংস্করন প্রকাশের দিনের পরিবর্তে লেনদেন শুরুর দিন থেকে গণনা করা হবে। তবে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর পরে আইপিও অনুমোদনে ৪ বছরের বেশি সময় লাগা কোম্পানির ক্ষেত্রে ১ বছর লক-ইন করা হয়েছে। উদ্যোক্তা/পরিচালক ও ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারনকারীদের জন্য ৩ বছর লক-ইন প্রযোজ্য হবে। এছাড়া উদ্যোক্তা/পরিচালক ও ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারনকারীদের হস্তান্তরকৃত শেয়ারে লক-ইন ৩ বছর, আইপিওর ৪ বছরে পূর্বে ইস্যুকৃত শেয়ারে ১ বছর, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে ১ বছর ও বাকি অন্যসব শেয়ারে ২ বছর লক-ইন রাখা হবে।

গত ১৬ জুলাই বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে নিলামে অংশগ্রহনকারীদেরকে। এছাড়া যে পরিমাণ শেয়ার কেনার জন্য দর প্রস্তাব করবে, সেই পরিমাণ কিনতে হবে বলে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদ্ধতিতে নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ার সম্পূর্ণ বিক্রি না হলে, সেই ইস্যু বাতিল করা হবে। এই পদ্ধতিতে বিডারদের নাম ও তাদের প্রস্তাবিত দর প্রদর্শন করানো যাবে না। আর বিডিংয়ের জন্য নিলামকারীদেরকে শতভাগ অর্থ সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে শেয়ার সর্বোচ্চ দর প্রস্তাবকারী থেকে বিতরন শুরু হবে, যা ক্রমানয়ে নিচের দিকে নামবে এবং যে মূল্যে বিতরন শেষ হবে, সেটাই কাট-অফ প্রাইস হবে। সাধারন বিনিয়োগকারীরা সেই মূল্য থেকে ১০ শতাংশ কমে শেয়ার ক্রয় করবেন। আর কাট-অফ প্রাইসে যদি একাধিক বিডার থাকেন, তাহলে যে বিডার আগে বিড করবেন, তাকে আগে শেয়ার দেওয়া হবে।

একদিনে বুক বিল্ডিং সংশোধনীর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) পদ্ধতি বাতিল করে বিএসইসি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা ৬৬ অনুযায়ী লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) পদ্ধতি এখন বাতিল। ফলে বে-মেয়াদী এবং মেয়াদী উভয় ধরণের ফান্ডের ক্ষেত্রেই কেবল মাত্র নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা যাবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর উন্নত শেয়ারবাজার গঠনের লক্ষে বিনিয়োগকারীদের সকল সমস্যা এবং অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অনলাইন মডিউল চালু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘কাস্টমার কমপ্লেইন্ট অ্যাড্রেস মডিউল’ (সিসিএএম) নামে তৈরি করা এই সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির ওয়েবসাইটের এই উইন্ডোতে প্রবেশ করে সহজেই অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

গত ২৮ অক্টোবর শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের পরামর্শে স্বচ্ছ ও ভালো কোম্পানি আনয়নের লক্ষ্যে আইপিও রিভিউ টিম গঠন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

ডিএসইর দাবির আলোকে গত ১৫ নভেম্বর লেনদেনের প্রথমদিন সার্কিট ব্রেকার আরোপের নতুন নিয়ম চালু করে কমিশন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লেনদেনের প্রথম দিন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে ৫০ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করা হয়েছে। লেনদেনের দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের শেয়ারের দর বাড়া বা কমার উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকার থাকবে। আর তৃতীয় দিন থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে।

গত ২৭ নভেম্বর কমিশন ব্রোকারেজ হাউজগুলোর এক্সটেনশন (বর্ধিত) অফিস খোলার সীমা ২ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। আর ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) বিধিমালা, ২০১৯ কিছু সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।

বিজনেস আওয়ার/৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯/আরএ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

বাজার মূলধন বেড়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা
বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন-সূচকে বড় উত্থান

উপরে