ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬


ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

১০:১৩এএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার (৪ জানুয়ারি)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি এই সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সাবেক নেতাদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

সংগঠনটির ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্যভাবে পালন করতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে তিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় এ উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল সাংগঠনিক কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাতটায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটা হয়।

এদিকে বেলা আড়াইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ পুনর্মিলনী আয়োজন করেছে। পুনর্মিলনীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাশে বটতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করা হবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতার সামনে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮ এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৬ এর ছয় দফার পক্ষে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করা, ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, সাতান্নর শিক্ষক ধর্মঘট, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। স্বাধীন বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে অংশ নেয় ছাত্রলীগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে হত্যার পর ছিনতাই হয়ে যায় স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিক ধারা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে স্বাধীনতার চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারে আন্দোলনের সূচনা করেন। ছাত্রলীগ ৯০'র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনা'র নেতৃত্ব অনন্য ভূমিকা রাখে।

শুরুতে পাকিস্তান ছাত্রলীগ নাম থাকলেও দেশ স্বাধীনের পর এর নাম হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তবে সময়ের পরিক্রমায় ছাত্রলীগ একাধিক ধারায় বিভক্ত হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পাশাপাশি জাসদ ছাত্রলীগ এবং জাতীয় ছাত্রলীগ নামেও দুটি সংগঠন নানা সময়ে জন্ম নেয়। জাতীয় ছাত্রলীগের অস্তিত্ব এখন আর তেমন না থাকলেও জাসদ ছাত্রলীগ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ছাত্রসংগঠন হিসেবে কাজ করছে। নিজেদের মধ্যে দলাদলি, অন্তর্কোন্দল, হামলা-মারামারিসহ নানা কারণে ছাত্রলীগের সমালোচনাও আছে।

বিজনেস আওয়ার/০৪ জানুয়ারি, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে