ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬


ভারিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পাকা আমন ধান

০৬:০৯পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বরগুনার বেতাগীতে ভারিবর্ষণে পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারের টানা বর্ষণে উপজেলার এক-তৃতীয়াংশ আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে ২.৩৮ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও ৩ হেক্টর ধনিয়া আবাদের ৮০ শতাংশ, মরিচ ০.৫ হেক্টরের মধ্যে ৮০ শতাংশ, শীতকালীন শাক-সবজি ১২০ হেক্টরের ৬১.২৫ শতাংশ, আখ ৫ হেক্টরের ২৪ শতাংশ, খেশারি ৫ শত হেক্টরের ৯৮ শতাংশ, পান ১৪০ হেক্টরের ১৩.৫০ শতাংশ ও কলা ৫০ হেক্টরের ২০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। গত ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর এবং ৩ ও ৪ জানুয়ারী বেতাগীতে টানা ভারি বর্ষণে পাকা আমন ও একই জমিতে খেসারি গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর আগে নভেম্বরে বুলবুলের প্রভাবেও এ এলাকার ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়।

উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ষাটোর্ধ কৃষক পনু হাওলাদার বলেন, পাকা আমন ধান কাঁটার ১৫ দিন পূর্বেই ধান ক্ষেতে খেসারি ডালের বীজ বপন করতে হয়। ধান ও খড়ঁকুটো কেঁটে নেয়ার পর মাঠে খেসারি ডালগুলো বড় হতে থাকে। কিন্তু গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে খেসারির গাছগুলো মাঠের পানির নিচে ডুবে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দু’ চার দিনের মধ্যে মাঠের পাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তুলে নেয়ার সময় ছিল। কিন্তু পৌষের এ অসময়ের টানা বর্ষণে পাকা ধানগুলোর ক্ষতি হয়।

একই উপজেলার উত্তর ছোট মোকামিয়া গ্রামের কৃষক মো: মধু মিয়া জানান, এবার ৫৫ একর জমিতে মৌলতা, দুধ কলম, কালিজিরা ও দেশীয় জাতের ধান আবাদ করেছিলাম। বর্তমানে অসময়ে বৃষ্টির কারণে মাঠে ধানগুলো পড়ে গেছে এবং এ ফসল ঘরে না তোলার উপক্রম হয়েছে।

সদর ইউনিয়নের ঝিলবুনিয়া গ্রামের কৃষক মো: জামাল মোল্লা বলেন, ৭ শতাংশ জমিতে বেগুন, করলা, ধনিয়া ও মরিচের বীজ বুনেছিলাম। প্রবল বর্ষণে মাঠের ধান অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ বার ভারি বর্ষণে মাঠের ধানগুলো পড়ে যাওয়ায় আমন ধানসহ নানা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষটি আমি উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠ সুপার ভাইজারদের মাধ্যমে সঠিক জরিপ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

বিজনেস আওয়ার/৫ জানুয়ারি,২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে