ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬


ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজ সংকট কাটছে না

১১:২১এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : মাঝখানে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও হঠাৎ ফের পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধমুখী। তবে সংকট মোকাবেলায় কৃষক তাদের জমি থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করায় আগামী দিনে পেঁয়াজের সংকট বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, ঘাটতি পূরণ করা না গেলে রমজানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর বলেন, এবার দেশে ২ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। এক জানুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৬২ হাজার ৩২৯ হেক্টর জমিতে।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪টি অঞ্চলে পেঁয়াজ আবাদ হয়। এর মধ্যে কী পরিমাণ অপরিপক্ব পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে, সে তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ৯টি অঞ্চলের পাওয়া তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমি থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চণ্ডী দাস কুণ্ডু বলেন, চলমান সংকট দূর করতে ও বেশি টাকায় বিক্রির আশায় কৃষক ক্ষেত থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে এই মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হবে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা হবে- এ খবর ভালো নয়। এতে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে। ভারত যদি রফতানি শুরু না করে, তাহলে দাম আরও বাড়বে। ফলে এখনই পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যাম বাজারের ব্যাবসায়ীরা বলছেন, বাজারে যে হারে অপরিপক্ব পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে, এতে সামনে আবারও পণ্যটি নিয়ে সমস্যার তৈরি হতে পারে। সেজন্য উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়াতে হবে। দ্রুত সরবরাহ ঠিক করা না হলে রমজানের আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আসন্ন রমজানের চাহিদা মেটাতে দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশসহ (টিসিবি) তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানি করবে। রমজান মাস শুরুর আগেই এগুলো আমদানি করা হবে।

রাজধানীর শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতারা জানান, গতকাল রোববার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়। এছাড়া আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা। আর খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৯০-২০০ টাকা। চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা।

বিজনেস আওয়ার/০৬ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে