করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৪৯
১৯
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
১৭৭
৭৪১০৩০
৩৫১১৪

ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬


মানবাধিকারের বাস্তব পরিস্থিতি ও উপলব্ধী!

০৩:১৫পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২০

মানবাধিকারের ধারণাটি আঠারো শতকের বিজ্ঞানের অর্জন। ১৯৪৮ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ধ্বংসযজ্ঞের অভিজ্ঞতা থেকে, জাতিসংঘ কর্তৃক একটি সনদ হিসেবে গৃহীত হয়। তবে মানবাধিকারের আলোচনা বিশ্বব্যাপি প্রসার লাভ করে বিশ শতকের চল্লিশ থেকে নববইয়ের দশকের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে। বর্তমানে যেকোন বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকারের ধারণা একটি প্রাথমিক কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।

মানবাধিকার বলতে মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা যা সকল মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার। প্রচলিত ধারণায় এই অধিকারগুলো হচ্ছে অখন্ডনীয় এবং মৌল। তবে এ সকল অধিকার এবং স্বাধীনতা যেসব ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হোক, তা থাকবে বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা হয় ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর, প্যারিসে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জন্ম।বিশ্বের ভয়াবহ যুদ্ধের বেশির ভাগের নেতৃত্ব দেয় ইউরোপ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তার, ফরাসি ও জার্মান সাম্রাজ্য বিস্তারে হতাহতের সংখ্যা এবং ধ্বংস এখন ইতিহাস। এ ঘোষণাটি মানব ইতিহাসের অন্যতম দলিল। এটাকে বিশ্বের মানুষের স্বাধীনতা, সুবিচার ও শান্তির ভিত্তিভূমি বলে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বের ১৬৫টি দেশ এই ঘোষণায় স্বাক্ষর করে।

২০১৮ সাল জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, বিশেষ করে ক্রসফায়ার, কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও গুম-গুপ্তহত্যার ঘটনা অব্যাহত ছিল। বিশেষত গত বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধে দেশজুড়ে ২৯২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালের আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় ছিল বেআইনি আটক,গণগ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর মতো ঘটনা।

এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৭০টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩২ জন। ধর্ষণপরবর্তী হত্যার শিকার ৬৩ জন, ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন। ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ জন। আর ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭২৪।

বেসরকারি সংস্থা 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের' সম্প্রতিক তথ্যমতে,বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড আগের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও শিশু ধর্ষণসংক্রান্ত নির্যাতনও বেড়েছে একই ভাবে। ২০১৮ সালে সারাদেশে ৪৩৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে ২২ শিশু। ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা গেছে ২৭১ শিশু।

মানবাধিকারের প্রধান ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক মদীনা সনদ ঘোষণার মাধ্যমে। মদীনা সনদকে পৃথিবীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।এ সনদে মোট ৪৭ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে যেগুলোতে মানবাধিকারের বিষয়গুলো সর্বপ্রথম সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করা হয়েছে।

এ সনদের উল্লেখযোগ্য অনুচ্ছেদ হচ্ছে-

>> সনদে স্বাক্ষরকারী সকল সম্প্রদায় একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে এবং সব সম্প্রদায় সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
>>সব নাগরিক পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
>>নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
>>সকল প্রকার রক্তক্ষয়, হত্যা ও ধর্ষণ নিষিদ্ধ।
>> কোনো লোক ব্যক্তিগত অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হবে। তার কারণে অপরাধীর সম্প্রদায়কে দায়ি করা যাবে না।
>>দুর্বল ও অসহায়দের অগ্রগণ্য সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।

সমগ্র পৃথিবীময় মানবাধিকার নিয়ে মাঝেমধ্যেই হইচই লক্ষ্য করা যায়। মানবাধিকার নিয়ে যে সকল সংগঠন গুলো সারা পৃথিবী তোলপাড় করে যে সকল সংগঠনের সত্যিকারে কর্মকান্ডগুলো আমরা কি কখনো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করে দেখেছি অথবা ভেবেছি। পৃথিবীর সব দেশের মতো আমাদের দেশেও অনেকগুলো মানবাধিকার সংস্থা আছে যারা মানব অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে মানবাধিকার দিবসটি পালন করার প্রবল প্রস্তুতি লক্ষ করা যায়, শুধু তাই না অনেক সময় মিডিয়ায় উপস্থিতি দৃশ্যমান হওয়ার জন্য, তাদেরকে বিভিন্ন সময় নামমাত্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলতে শোনা যায়। মানবাধিকারের বাস্তবায়ন করার জন্য রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিদের ইতিবাচক ভূমিকায় হতে পারে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান অন্যতম হাতিয়ার।

লেখক- মোঃ সবুর মিয়া, বেসরকারি চাকরিজীবী।

বিজনেস আওয়ার/০৬ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে