ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬


পাঁচ মিনিটেই খোলা যাবে ব্যাংক হিসাব

০৩:৪৩পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ এখন গ্রাহকেরা পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন। শুধু ব্যাংক হিসাব নয়, পাঁচ ধাপে পাঁচ মিনিটে খোলা যাবে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ও বিমা পলিসিও। শুধু লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) গতকাল বুধবার ই-কেওয়াইসি (নো ইওর কাস্টমার) নীতিমালা জারি করেছে। নতুন নীতিমালা জারির ফলে গ্রাহক হয়রানি ও খরচ কমবে বলে মনে করে বিএফআইইউ। অবশ্য এর আগে এ বিষয়ে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একজন গ্রাহক আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অথবা আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা এজেন্ট গ্রাহকের বাসায় গিয়ে বা একজন গ্রাহক ঘরে বসে নিজেই নিজের হিসাব খুলতে পারবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ই–কেওয়াইসি নীতিমালা অনুযায়ী হিসাব খোলা যাবে না। যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাঁরা বিদ্যমান পদ্ধতিতে হিসাব খুলতে পারবেন। নতুন নীতিমালায় আঙুলের ছাপ ও মুখচ্ছবির সাদৃশ্য করা—এই দুই পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাইলে চোখের (আইরিশ) সাদৃশ্য পদ্ধতির মাধ্যমে হিসাব খুলতে পারেন।

যে ব্যাংকে গ্রাহক হিসাব খুলতে চান, সেই ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে কেওয়াইসির নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করে পাঁচ ধাপে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানা, মা-বাবা বা স্বামী-স্ত্রীর নাম, মুঠোফোন নম্বর, পেশা ইত্যাদি তথ্য যুক্ত করতে হবে। ব্যাংকের শাখায় বা এজেন্টদের কাছে থাকা ট্যাবে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমেও এটি করা যাবে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের জাতীয় তথ্যভান্ডারে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ফরম পূরণ করার পর সাবমিট করলে ফিরতি বার্তা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক কেওয়াইসি ফরম পূরণ বা গ্রাহককে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হয়। ব্যাংকভেদে এই ফরমে ৫০ থেকে ৭০টি প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। এতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ব্যাংকের কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দিন পর চালু হয় হিসাব।

চলতি জানুয়ারি মাসেই ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি বা ই-কেওয়াইসি চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের শাখা, এজেন্ট ও বুথগুলোতে হিসাব খোলার এই সুবিধা পাবে। এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৩ জেলার ৫০ এলাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-কেওয়াইসি ব্যবহৃত হয়েছে।

জানা যায়, বর্তমানে ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে চালু আছে এই ধরনের ডিজিটাল সেবা। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ই-কেওয়াইসি বিষয়ে কমিটি গঠন করে। মূলত সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির ভাতা প্রদানের জন্য হিসাব খুলতে ই-কেওয়াইসির বিষয়টি সামনে আসে। বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির ভাতা এখন ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। এ কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ৭৬ লাখ মানুষ। এবার তা বেড়ে হবে ৮৯ লাখ।

বিজনেস আওয়ার/৯ জানুয়ারি,২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে