businesshour24.com

ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬


মৌলভিত্তি কোম্পানির পতনে বড় ধস

০২:৫১পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : আগের দিনের ন্যায় (১৩ জানুয়ারি) মঙ্গলবারও মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির দর পতনে দেশের শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। যে ধস দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সকে বিগত ৫৬ মাস পিছনে নিয়ে গেছে। যার প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসে।

শেয়ারবাজারের চলমান ধসে ‘মরার উপরে খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাড়িঁয়েছে আইসিবির সাবেক ‘বিতর্কিত’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হককে এমডি নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর পর্ষদের বিভক্তি। যা শেয়ারবাজারে অনাস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে এবং নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা যৌক্তিক কারন ছাড়াই আতঙ্কে শেয়ার বিক্রিতে ঝুকেঁ পড়েছেন। অনেকটা বিক্রি করে এ বাজার থেকে বের হতে পারলেই যেনো হাফ ছেড়ে বাচেঁন।

এদিন ডিএসইর মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৮৭ পয়েন্ট। এরমধ্যে গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের অবদান ৩২ পয়েন্ট বা ৩৭ শতাংশ। এ সময় একক কোম্পানি হিসাবে সূচকে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোনের দর পতন। এ কোম্পানির দর পতনে সূচক কমেছে ১৫.৬৫ পয়েন্ট। আর ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকোর কারনে ৮.৬৫ পয়েন্ট ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কারনে ৭.৬৪ পয়েন্ট কমেছে।

জানা গেছে, আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪০৩৬ পয়েন্টে। যা ৪ বছর ৮ মাস অর্থাৎ ৫৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৫ সালের ৫ মে আজকের চেয়ে নিম্নে অবস্থান করছিল ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকটি। ওই দিন ডিএসইর ডিএসইএক্স ৪০১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

মঙ্গলবার ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২৩ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯০৭ ও ১৩৬২ পয়েন্টে। ডিএসইর চালু হওয়া নতুন সূচক সিডিএসইটি ১৪ পয়েন্ট কমে ৮১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইতে আজ টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৮৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার।

ডিএসইতে আজ ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩২টির বা ৯.০১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৯৩টির বা ৮২.৫৪ শতাংশের এবং ৩০টি বা ৮.৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের। এদিন কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এবং ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে নেমেছে এডিএন টেলিকম।

ডিএসইর টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে : খুলনা পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রিং সাইন, ব্র্যাক ব্যাংক, নর্দার্ণ জুট, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও গ্রামীণফোন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩০০ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ২৭টির, কমেছে ১৯৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির দর। আজ সিএসইতে ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১৪ জানুয়ারি, ২০২০/এস

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

বাজার মূলধন বেড়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা
বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন-সূচকে বড় উত্থান

উপরে