ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬


ফাইনালেও সবার নজর আন্দ্রে রাসেলের দিকেই

০৮:৪৯পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ ক্রিস গেইলও বিদায় নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টির শীর্ষ ও বিশ্ব তারকাদের ভেতরে আছেন কেবল আন্দ্রে রাসেল। এখন বিপিএল ফাইনালে বিশ্ব তারার তকমা গায়ে আঁটা পারফরমার আছেন শুধুই এই রাসেল।

চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে এই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারই হচ্ছেন সম্ভবত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সবার সেরা ও সবচেয়ে কার্যকর অলরাউন্ডার। এক কথায় বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর এক ক্রিকেটার। যার ব্যাট ও বল সমান কার্যকর।

আইপিএল, বিগব্যাশসহ বিশ্বের প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি আসরে আন্দ্রে রাসেল মানেই প্রতিপক্ষ শিবিরের হৃদকম্পন। কিন্তু কেন যেন বিপিএলে এতদিন পর্যন্ত নিজের সত্যিকার বিধ্বংসী রূপ দেখাতে পারছিলেন না এ ক্যারিবিয়ান। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান তাই বলছে।

এ পর্যন্ত বিপিএলে ৪৩ ম্যাচে ৩৬ বার ব্যাট করে ১৫ বার নট আউট থেকে রান মোটে ৭২৪। গড় ৩৪.৪৭। স্ট্রাইকরেট ১৬৫.২৯। ফিফটি মাত্র একটি। বাউন্ডারি ৪৫ টি। ছক্কা ৫৯।

এবারের বিপিএলেও রান তোলায় এ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সেরা দশে বহুদূরে, বিশেও (১২ খেলায় ১৯৮ রান করে ২৪ নম্বর) নেই। উইকেটশিকারির তালিকার শীর্ষ দশেও তার (১২ খেলায় ১২ উইকেট নিয়ে ১৩ নম্বর) নাম নেই।

মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে কোয়ালিফায়ার টু‘তে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ২৪ বলে আড়াইশোর ওপর স্ট্রাইকরেটে ৬০ রানের হার না মানা অতিমানবীয় ইনিংসে ম্যাচ জেতানো ছাড়া এবারের আসরে আহামরি কিছু খেলতেও পারেননি। গড়পড়তা পারফরম করেছেন।

তারপরও বঙ্গবন্ধু বিপিএলের এবারের আসরের ফাইনালে সব ‘ফোকাস’ আন্দ্রে রাসেলের দিকে। কারণ আগে যাই করুন আর যেমনই খেলুন না কেন, আন্দ্রে রাসেলই দুই দলের ২২ জনের মধ্যে একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি একাই গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য।

তাই ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার ফাইনালের আগে সবার চোখ এ ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের দিকে স্থির হয়ে আছে। রাজশাহী রয়্যালস ভক্তরা আশার প্রহর গুনছেন, আন্দ্রে রাসেল কোয়ালিফায়ার পর্বের মত ফাইনালে জ্বলে উঠে দলকে শিরোপা উপহার দেবেন।

অন্যদিকে খুলনা টাইগার্স সমর্থকরা আছেন গভীর চিন্তায়, কি জানি আন্দ্রে রাসেল একাই না সর্বনাশ ডেকে আনেন! নিরপেক্ষ ক্রিকেট অনুরাগি, যারা টি-টোয়েন্টি নির্মল বিনোদন, চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর বিগ স্কোরিং গেম দেখতে মুখিয়ে আছেন; তাদেরও চোখ এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানের দিকে।

সব মিলে ফাইনালের আগে যত কথা, জল্পনা-কল্পনা আন্দ্রে রাসেলকে নিয়েই। তার সামর্থ্য সবারই জানা। তারপরও এতদিন সেভাবে ভয় ছড়াতে পারেননি। কিন্তু ২৪ ঘন্টা আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হাত থেকে যেভাবে ম্যাচ বের করে নিয়েছেন, যেভাবে তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। তারপর আর রাসেল ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভাবার উপায় আছে?

এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছে। শেষ ৩ ওভারে জিততে দরকার ছিল ৩৭ রান। তাতে কি? ঠান্ডা মাথায় এক প্রান্তে হিমালয়ের মত অবিচল থেকে আর নিজের সামর্থ্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও অবিচল আস্থায় শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচ বের করে নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল।

এমনকি শেষ ওভারে ডট বল নিতেও বুক কাঁপেনি। বাউন্ডারি সীমানায় মাটি কামড়ে বল পাঠিয়ে সিঙ্গেসও নেননি। কারণ তার আত্মবিশ্বাস ছিল-আমি পারবো। আমার এক দুটি বিগ হিটই যথেষ্ট দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে এবং সেটা তিনি পেরেছেনও।

আন্দ্রে রাসেল এমন এক ব্যাটসম্যান, তার সামনে বোলারের নামটা কোনো ব্যাপার নয়। নিজের নাগালের ভেতর বল পেলেই হয়। সেটা লং অফ, এক্সট্রা কভার, লং অন, স্ট্রেইট কিংবা ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে সীমানার ওপারে পাঠাতে যারপরনাই ওস্তাদ তিনি।

সবচেয়ে বড় কথা, ডেথ ওভারে একদম খুনে মানসিকতায় প্রতিপক্ষ বোলারদের দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারেন আন্দ্রে রাসেল এবং দেনও প্রায় অহরহ। আইপিএল, বিগব্যাশেও ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান এমন অনেক ম্যাচ প্রতিপক্ষের হাতের নাগাল থেকে কেড়ে নিয়েছেন। মনোবল, নিখুঁত টাইমিং আর শারীরিক শক্তির মিশেলে ডেথ ওভারে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী উইলোবাজ এই রাসেল।

বল হাতেও অবশ্য কম যান না। খুব বেশি দৌড়ান না। ১০-১২ গজ হবে। তবে গতি বাড়ানো ও কমানোর সামর্থ্যটা দারুণ। কখনো কখনো বাড়তি গতি আর খাটো লেন্থ থেকে বাউন্সার ছুড়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাবু করার কাজটি ভালোই পারেন আন্দ্রে রাসেল।

বেশি দূর যেতে হবেনা। এবারের আসরে তার দল এখন পর্যন্ত খুলনাকে যে একবার মাত্র হারিয়েছে, সে ম্যাচের হিরোও ছিলেন রাসেল। তার একার ব্যাট ও বলের অলরাউন্ড পারফরমেন্সের কাছেই হার মানে মুশফিক বাহিনী। রাসেল ওই ম্যাচে প্রথমে বল হাতে ৩৪ রানে দখল করেন ৪ উইকেট। খুলনা আটকে যায় ১৪৫ রানেই।

পরে এই রান তাড়া করতে নেমে ১৯ বলে দলের জন্য খেলেন ২৮ রানের হার না মানা এক ইনিংস। দলকে জয় এনে দিয়ে তবেই বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন ক্যারিবীয় এই অলরাউন্ডার।

ফাইনালেও যে তিনিই সবটুকু আলো নিজের দিকে রাখবেন, বলাই যায়। হতে পারেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটির ভাগ্য নিয়ন্তাও।

বিজনেস আওয়ার/১৬ জানুয়ারি,২০২০/ এ এইচ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে