ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬


'আতঙ্ক ছড়াতেই পুলিশের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা'

০৩:১৫পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : যেহেতু জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তাই আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর জঙ্গিরা হামলা করেছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকা থেকে পুলিশকে টার্গেট করে বোমা হামলা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. জামাল উদ্দিন রফিক ও মো. আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে, ২৬ মে মালিবাগে ৩১ আগস্ট সাইন্সল্যাব মোড়সহ ঢাকা শহরে মোট ৫টি স্থানে পুলিশকে টার্গেট করে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রত্যেকটির মূলপরিকল্পনাকারী গ্রেফতারকৃত রফিক। তিনি নিজে ৪টিতে সরাসরি অংশ নেন। আর গ্রেফতার আনোয়ার সবগুলোতে নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করেন এবং একটিতে সরাসরি অংশ নেন।

ওই ঘটনাগুলোর তদন্তে ও স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে হামলার পরিকল্পনাকারী রফিক এবং সহযোগী হিসেবে উঠে আসে আনোয়ারের নাম। আনোয়ার মূলত ড্রাইভার। তিনি পোড়া মবিল ও ডিজেল আনা নেয়া করতেন।

মনির বলেন, গ্রেফতাররা কালো পোশাক পরিধান করে খেলনা অস্ত্র, বোমাসহ সুইসাইডাল ভেস্ট পরে বিভিন্ন উগ্রবাদী কথাবার্তা সম্বলিত একটি ভিডিও ক্লিপ অনলাইনে প্রচার করেছিল। ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চারজনের মধ্যে ফরিদ উদ্দিন রুমি, আব্দুল্লাহ আজমীরের সঙ্গে এই গ্রেফতার রফিক ও আনোয়ার অংশ নিয়েছিল।

ওই ভিডিও ক্লিপে অংশ নেয়া এই দুজনসহ সবাই গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়াসহ তাদের উগ্রবাদী সংগঠনের সক্ষমতা ও রিক্রুটমেন্ট তরান্বিত করার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে অনলাইনে ভিডিও ক্লিপ প্রচার করেছিল।

তিনি বলেন, জামাল উদ্দিন রফিক পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি চাকরির পাশাপাশি আউটসোর্সিং এর কাজ করতেন। সেখান থেকে অর্জিত আয়ে ছোট সেল গঠন করে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের রসদ সংগ্রহে ব্যয় করে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের তক্কা মোড়ে রফিকের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান, বোমাসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকদ্রব্য, লিকুইড জব্দ করা হয়েছিল। এসব ক্রয়ে অর্থের সংস্থান মূলত রফিকের।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে চায় প্রচার। পুলিশের উপর হামলা করলে প্রচারটা বেশি পাওয়া যায়। তাছাড়া পুলিশের উপর হামলা করলে জনমনে ভয়-ভীতিটা বেশি সৃষ্টি হবে। কারণ পুলিশ জনগণকে নিরাপত্তা দেবে। সেখানে পুলিশেই যদি অরক্ষিত হয় তাহলে জনগণকে কিভাবে নিরাপত্তা দেবে। এই জায়গায় তারা পুলিশের উপর হামলার টার্গেট করেছিল।

বিজনেস আওয়ার/২০ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে