ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬


সানাউলকে নিয়ে ডিএসইর পর্ষদে তুমুল বাকবিতণ্ডা, মামলার পরামর্শ চেয়ারম্যানের

০৬:১০পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’র (আইসিবি) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হককে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এমডি করা নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। এ নিয়ে ডিএসইর পর্ষদ সভায় তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। পর্ষদের একটি অংশ সানাউলকে এমডি করার বিরোধিতা করলেও ডিএসই'র চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বিষয়টি আমলেই নেননি। উল্টো সানাউলের পক্ষ নিয়ে তিনি বিরোধীতাকারীদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ডিএসই'র পর্ষদ সভায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

সানাউলকে এমডি করার বিষয়ে সাফাই গেয়ে আবুল হাসেম পর্ষদ সভায় বলেছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ডিএসইর এমডি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যদি কারও মনে হয় এমডি নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি তাহলে তিনি মামলা করতে পারেন।

জানা গেছে, ডিএসই পর্ষদের একটি অংশের পাশাপাশি আরও ২০-২৫ জন সদস্য কাজী সানাউলকে এমডি করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিষযটি আমলেই নেননি চেয়ারম্যান। উল্টো তিনি সানাউলের পক্ষ নিয়েছেন।

ডিএসইর পর্ষদ সভার একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে পরিচালকদের একটি অংশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা কাজী সানাউল হক-কে এমডি করার বিষয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ বরাবরই সানাউলের পক্ষ নিচ্ছেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

এর ভিত্তিতে চেয়ারম্যান বলেন- এর আগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কে এ এম মাজেদুর রহমান-কে এমডি করার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন বিএসইসি নাকচ করে দিয়েছেন। এখন সানাউল হকের প্রস্তাব বিএসইসি অনুমোদ দিয়েছেন। যদি এমডি নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয় তাহলে মামলা করেন।

বৈঠক শেষে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, ডিএসইর এমডি নিয়োগ নিয়ে যা হয়েছে তা শেয়ারবাজারের মোটেই ভালো প্রভাব পরেনি। ডিএসইর জন্য এটি খুবই খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। এর জন্য হয় তো পুরো শেয়ারবাজারকেই ভূগতে হতে পারে।

তিনি বলেন, ডিএসইর যে স্বতন্ত্র পরিচালকরা আছেন তাদের মেয়াদ বেশি দিন নেই। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই তাদের মেয়াদ শেষ হবে। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে তারা শেয়ারবাজারের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়ে গেলেন। তাছাড়া বাজার এখন একটি ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একজন স্বচ্ছ ব্যক্তিকে ডিএসইর এমডি করা উচিত ছিল।

পর্ষদ সভা শেষে ডিএসইর কার্যলয়ে সাংবাদিকরা ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাসেম’র সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি পাশকাটিয়ে যান। ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি ডিএসইর এমডি নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিতে ‘নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটি (এনআরসি)’ কাজী সানাউল হককে এমডি হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হয়। এরপর ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসইর পর্ষদ সভায় তাকে এমডি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পর্ষদ সভায় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের ৬ জন কাজী সানাউল হককে এমডি হিসাবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে সম্মতি জানান। তবে তিনজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালকসহ ৪ জন তার বিষয়ে আপত্তি জানান। আপত্তি জানানো শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এমডি নিয়োগে স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

তারা অভিযোগ করেন, ডিএসইর এমডি নিয়োগের বিষয়ে পর্ষদ সদস্যদের নোটিশ করতে হয়। কিন্তু এবার কোন নোটিশ করা হয়নি। আবার এমডিকে পর্ষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানোর রীতি থাকলেও তা করা হয়নি। এছড়া আইসিবিতে থাকা অবস্থায় কাজী সানাউল হক’র বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে তাকে তলবও করা হয়। এ নিয়ে সাংবাদ মাধ্যমে লেখা লেখি হয়েছে। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ডিএসইর এমডি করা উচিত হবে না।

তবে এরপরও পর্ষদ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ওইদিেই ডিএসই থেকে কাজী সানাউল হককে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিএসইসিতে আবেদন করা হয়। এরপর ১২ জানুয়ারি ডিএসই থেকে সানাউল হক’র বিষয়ে পর্ষদ সদস্যদের আপত্তিগুলো চিঠি দিয়ে বিএসইসিকে জানানো হয়। চিঠিতে, আপত্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমডি নিয়োগের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য বিএসইসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এরপর গতকাল বুধবার কমিশন সভা করে বিএসইসি কাজী সানাউল হক-কে ডিএসইর এমডি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/২৩ জানুয়ারি,২০২০/আরআই/পিএস

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে