ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬


'ইসি থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না'

০৩:৫৫পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : 'ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন এবার কোনও তথ্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশন এবার তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছে। এর আগের সব নির্বাচনে কমিশন থেকে সব সময় তথ্য পেয়ে এসেছি। এবার তারা তথ্য দিচ্ছে না। এটার কারণ কি? নির্বাচন কমিশনকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তাতেও কোন জবাব না পেয়ে সর্বশেষ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি তা সত্ত্বেও তারা কোনো টু শব্দ করছে না।

তিনি বলেন, তথ্য পাওয়ার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনে এ তথ্য জানা অপরিহার্য। তারপরও নির্বাচন কমিশন কোনো কর্ণপাত করছে না। তারা আইন-কানুন, বিধি-বিধানের কোনো তোয়াক্কা করছে না।

আইনি নোটিশের পরও নির্বাচন কমিশন তথ্য না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও এক প্রশ্নের জবাবে জানান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী বেশি দেখা যাচ্ছে। তাতে মনে হচ্ছে, রাজনীতি এখন পুরোপুরি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এতে আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবসায়ীদের করায়ত্ব হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি এখন ধনাঢ্য ও অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

সুজন সম্পাদক বলেন, দেখে মনে হচ্ছে কাউন্সিলর প্রার্থীও দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে হচ্ছে। অথচ শুধুমাত্র মেয়র পদে দলীয় ভিত্তিতে প্রার্থী হবেন। কিন্তু কাউন্সিলর পদে নয়। যদিও বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই। তবে দলীয়ভাবে কাউন্সিলর প্রার্থী হলে প্রার্থী সংখ্যা কমে যায়। আর প্রার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়া নাগরিকদের জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থা। কেউ যেন দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না। যাতে সরকারি দল বা সরকার তাদের উপর বিরাগভাজন হবে। এটা কিন্তু একটা অশনি সংকেত। তার মানে অন্যায় আরও বেড়ে যাবে।

ইভিএম ভোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিজেই মেশিনকে অপারেট করে যাদের আঙ্গুলের ছাপ পড়ে না, তাদের ভোট দিতে পারতেন। এরকমভাবে তিনি ২৫ শতাংশ ভোট দিতে পারবেন।

এখন এটি যদি চালু থাকে তাহলে একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা তাদের ক্ষমতা বলে তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেয় তাহলে সেটি হবে ভয়ানক অবস্থা। আমরা জানিনা এ নির্বাচনে এ রকম এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে কিনা।

তিনি বলেন, ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়া হলে তাতে তো একটা ডকুমেন্ট থাকে। কিন্তু ইভিএমে কাকে ভোট দিয়েছেন তার কোনো ডকুমেন্ট থাকবে না। একজন ভোটার তার প্রার্থীকে ভোট দিলেন কিন্তু কাউন্ট হলো অন্যপ্রার্থীর পক্ষে। এ ক্ষেত্রে অডিট করার কোনো সুযোগ নাই। নির্বাচন কমিশন যা বলবে তা ই বিশ্বাস করতে হবে।

সাবেক তত্ত্বধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন-সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার, সুজনের সদস্য ক্যামেলিয়া চৌধুরী প্রমূখ।

বিজনেস আওয়ার/২৫ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে