করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
২১৮
৩৩
২০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৪,২৯,৪৩৭
৮২,০৭৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬


চীনের বিপর্যয়ে বাড়তে পারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রফতানি

১১:৩৬এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চীনা অর্থনীতি। করোনার প্রভাবে চীনের রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। আর এ কারনে অর্ডার বাড়তে পারে বাংলাদেশের। এ জন্য এখনই দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি করে রফতানিকারকরা বলছেন, সময়মতো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে অর্ডার চলে যাবে ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়াসহ আশপাশের দেশে। চীনের কারণে শূন্য হয়ে ওঠা বিশ্ববাজার ধরতে ডলারের বিপরীতে টাকার ক্রমাবনতির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ ও বন্দর সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যমতে, বর্তমানে তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজার ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এ মার্কেটের বেশির ভাগ দখল করে আছে চীন। ২০১৭ সালে মোট বাজারের প্রায় ৩৫ শতাংশ দখল করেছিল চীন। ২০১৮ সালে এসে তা সাড়ে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের অবস্থান কখনও দ্বিতীয়, কখনও তৃতীয়। তবে সাম্প্রতিক ভিয়েতনামের দ্রুত উত্থানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন এ দেশের রফতানিকারকরা।

চীনের ওপর দিয়ে বয়ে চলা এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাক রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধারা অনুযায়ী, চীন থেকে রফতানি কমলে অপরাপর রফতানিকারক দেশ থেকে বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের সম্ভাবনাই বেশি। বায়াররা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেখা গেছে একই কোম্পানি চীন থেকেও পোশাক কেনে, বাংলাদেশ থেকেও কেনে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চীনে অর্ডার কমিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে বাড়িয়ে দেয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা কতটা প্রস্তুত? আমাদের পোশাক শিল্প নানা সমস্যায় জর্জরিত। আমাদের বন্দর নিয়ে নানা সমস্যা। ডলারের বিপরীতে টাকা মান কমানোর দাবিটি দীর্ঘ দিনেও আমলে নেয়নি সরকার। কাজেই নতুনভাবে তৈরি হওয়া সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আমাদের উচিত খুব দ্রুত নিজেদেরকে প্রস্তুত করা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিশ্ববাজারে এক হাজার ৯৩০ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল দুই হাজার ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রফতানি কমেছে ১১৯ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রফতানির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির যে ধারা শুরু হয়, প্রথমার্ধ শেষেও তা অব্যাহত আছে। এ জন্য তৈরী পোশাক শিল্প খাতের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক রফতানি হয় এক হাজার ৬০২ কোটি ৪০ লাখ ১০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল এক হাজার ৭০৮ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক। এ হিসেবে ছয় মাসে পোশাক রফতানি কমেছে ১০৬ কোটি ডলারের বেশি তথা ৬ দশমিক ২১ শতাংশ।

বিজনেস আওয়ার/ ৩ ফেব্রুয়ারি,২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে