করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
২১৮
৩৩
২০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৪,২৯,৪৩৭
৮২,০৭৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬


বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে রাতে

১২:৪৭পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসরের পর্দা নামবে আজ। বাণিজ্য মেলা কারো কারো কাছে বিনোদনের অন্যতম ক্ষেত্র। আবার কারো কারো আয়ের বা চাকরির উৎস। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতেই সব বাঁধন ছিড়ে বিদায় নিচ্ছে এই মিলন মেলা।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য মেলার চলতি আসরের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এবার মেলায় মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। মেলায় দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন স্থাপনের জন্য সেরা প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছে ফার্নিচার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইশো।

মেলা প্রাঙ্গণে একটি প্যাভিলিয়নে খন্ডকালীন চাকরি করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে মেলায় আছি। মেলার প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা জন্মে গেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) মেলার শেষ দিন মনে হতেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মেলায় আসার মূল উদ্দেশ ছিল অভিজ্ঞতা নেয়া। মেলা থেকে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আশা করি ভবিষ্যতে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি কিছু অর্থও উপার্জন হয়েছে। এ জন্য ভালো লাগছে। তবে মেলার প্রতি যে ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে তা কয়েকদিন ভোগাবে মনে হচ্ছে।

মেলায় পরিবার নিয়ে আসা মাজাহারুল বলেন, আসি আসি করে মেলায় আসা হয়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) অফিস থেকে ছুটি নিয়ে মেলায় চলে আসলাম। বাসার জন্য কিছু কেনাকাটা করার ইচ্ছা আছে। তবে মেলায় আসার মূল উদ্দেশ ঘোরাঘুরি।

আরেক দর্শোনার্থী বলেন, মেলায় ঘোরাঘুরি করতে আমার খুব ভালো লাগে। আজ মেলার শেষ দিন তাই সকাল সকাল চলে আসলাম। মেলায় এসে কোনো কেনাকাটা করিনি, তারপরও মেলার প্রতি ভালোবাসা জন্মে গেছে। এক বছর পর আবার বাণিজ্য মেলা বসবে, সেই মেলা দেখতে পারব কি না জানি না। তাই আজ যত সময় পারি মেলার ভেতরে থাকব।

বরাবরের মতো এবারও বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু উপলক্ষে ১০ জানুয়ারি মেলা বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া এবারের মেলায় প্রথমদিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল বেশ কম।

এ কারণে মেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে মেলার সময় বাড়িয়ে নতুন করে ৪ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে দ্বিতীয় দফায় মেলার সময় দু’দিন বাড়িয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত করা হয়।

বিক্রেতারা জানান, শীতের কারণে মেলার প্রথম দুই সপ্তাহ ক্রেতা সংকট ছিল। তবে শেষদিকে এসে বেশ জমজমাট হয়েছে মেলা। দুটি সাপ্তাহিক ছুটিতে মেলা বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তবে দুই দফায় মেলার সময় বাড়ানোর ফলে সেসব লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছেন তারা। শেষ সময়ে অধিক লাভ নয় বরং উত্পাদন খরচেই বিক্রি করছেন অনেক পণ্য।

মেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, মেলায় লিখিত অভিযোগ পড়েছে ৪৩টি। এর মধ্যে ৩৬টি অভিযোগ সমঝোতা করা হয়েছে। বাকি সাতটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একাধিক ক্রেতা দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবারের আসরের চেয়ে আগামী আসর আরো মানসম্মত চাই, আন্তর্জাতিক মানের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। খাবারের দাম নির্ধারণ করা, হকারি পণ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, এবারের মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ২১টি দেশ অংশগ্রহণ করে। মেলায় মোট স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ছিল ৪৮৩টি।

বিজনেস আওয়ার/০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে