করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
২১৮
৩৩
২০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৪,২৯,৪৩৭
৮২,০৭৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬


সংকটময় ভাইরাস আতঙ্ক, ইতিহাসের ভয়ংকর নাম!

০৫:৩৫পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভাইরাস নামক আতঙ্কে চীনসহ সমগ্র বিশ্ব। মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে।সারা পৃথিবীতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম ভাইরাস মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এবার করোনা ভাইরাস কতটা ভয়ঙ্কর তার প্রমান আমরা বর্তমানে দেখছি। চলমান ভাইরাস আতঙ্কে মৃত্যুর মিছিল কত বড় দীর্ঘ হয় সেই জন্য আমাদের অপেক্ষা ছাড়া তেমন কোন কিছুর করার সুযোগ নেই বললেই চলে।

পৃথিবীতে বিভিন্ন রকম ভাইরাস আতঙ্কের পরিসংখ্যানের একটি চিত্র উপস্থাপন করা হলো:

১.এবোলা ভাইরাসঃ
এবোলা ভাইরাস মূলত ফিলোভিরিডি পরিবারের সদস্য এবং এটি খুব মারাত্মক। এবোলা ভাইরাসে সংক্রমিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু অবধারিত। এ অসুখের ওষুধ বা টিকা আবিষ্কার হয়নি এখন পর্যন্ত। সরাসরি শারীরিক সংযোগে ঘটে থাকে সংক্রমণ অসুস্থ বা মৃত জন্তুর সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে। মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসকে লম্বা ও পাতলা সুতার মতো মনে হয়। এগুলোর অনেক প্রজাতি রয়েছে। বিশেষ কয়েকটি মানুষকে অসুস্থ করতে পারে। আর এ রকম হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু হয়। প্রথম ১৯৭৬ সালে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে রোগটি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার দেশগুলোতে ১৫টি মহামারী দেখা গেছে। মারা গেছে ১৩০০-এর বেশি মানুষ। গিনি ও লাইবেরিয়া এই ভাইরাসের কবলে পড়েছে, ২০১২ সালে উগান্ডা ও কঙ্গো এবোলার শিকার হয়েছিল।

২.বার্ডফ্লু ভাইরাস:
ভাইরাস-ঘটিত সংক্রামক রোগ। ১৯৯৭ সালে হংকংয়ে প্রথম মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে এটি হাঁস-মুরগীর মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে মাসে লক্ষ্য করা যায় যে,অসুস্থ মুরগীর সংস্পর্শে আসা মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে।২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার আশপাশে এই রোগের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়। জীববিজ্ঞানীদের মতে- এটি মিক্সো ভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত অর্থোমিক্স উপ-পরিবারের সদস্য। প্রাথমিক বিভাজনে এদেরকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস বলা হয়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হল, এই ভাইরাসটি প্রতি মূহুর্তেই নিজেকে বদলে নিতে পারে। ফলে কোন সুনির্দিষ্ট টিকা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী হয়ে উঠে না। বিজ্ঞানীদের মতে, মহামারী সৃষ্টি করার জন্য একটি ভাইরাসের তিনটি গুণ থাকা অতি জরুরী। প্রথমটি হলো কার্যকরভাবে মানবদেহে সংক্রমণ ঘটানো। দ্বিতীয়টি হলো মানবদেহে টিকে থাকার ক্ষমতা ও তৃতীয়টি হল মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হবার যোগ্যতা অর্জন।

৩.ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস:
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসজনীত একটি রোগ। শীতকালে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এটি সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে আলাদা। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দিয়ে এ রোগ হয়। শরীরে জীবাণু ঢোকার এক থেকে চার দিনের মধ্যেই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অন্য ভাইরাসগুলোর তুলনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে অসংখ্য লোককে আঘাত করতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, খুসখুসে কাশি, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমি, দুর্বলতা ইত্যাদি। সাধারণ সর্দি-কাশির চেয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণগুলো গুরুতর। বয়স্ক ও শিশুদের সংক্রমণের হার বেশি। এটি থেকে সাইনোসাইটিস, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদিও হতে পারে।
ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। হাঁচি-কাশির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন এবং জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হয়ে থাকে। সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়ে সাইনোসাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হলে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন পড়ে, সঙ্গে প্রচুর পানি বা তরল খাবার গ্রহণ করা আবশ্যক।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু রোগের একটি টিকার ‘কার্যপ্রণালি’ আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের দাবি, এই ‘যুগান্তকারী’ সাফল্যের ফলে টিকাটি ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের ফ্লু বা নতুন কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

৪.মাচুপো ভাইরাসঃ
বলিভিয়ার ‘হেমোরহেজিক’ জ্বরের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাচুপো ভাইরাস।এটি ‘ব্লাক টাইপুস’ হিসেবেও পরিচিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাত্রাতিরিক্ত জ্বর হয়, সঙ্গে শুরু হয় মারাত্মক রক্তপাত। জুনিন ভাইরাসের মতো এটির বৃদ্ধি ঘটে। মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে৷

৫.নিপাহ ভাইরাস:
নিপাহ রোগ বলতে মূলত নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট লক্ষণসমূহকে বুঝায়। লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, প্রলাপ বকা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এ রোগে মৃত্যু হার অনেক বেশি। নিপাহ ভাইরাস একটি Emerging Zoonotic ভাইরাস, যা পশু-পাখি থেকে মানুষে ছড়ায়। ভাইরাসটি মস্তিষ্ক বা শ্বসনতন্ত্রে প্রদাহ তৈরির মাধ্যমে মারাত্মক অসুস্থতার সৃষ্টি করে। এটি Henipavirus জেনাসের অন্তর্গত একটি ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাসে এনসেফালাইটিস নামক মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ হয়।

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় সর্বপ্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। ভাইরাসটি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে শূকরের খামারে কাজ করা চাষীদের মাধ্যমে প্রথম ছড়িয়েছিল। আক্রান্ত শূকরের স্পর্শ, তাদের লালা ও সংক্রমিত মাংসের মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটে। পরে রোগটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়৷বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ সময়টাতে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে এবং রসের হাড়িতে প্রস্রাব করে বলে ওই রসের সঙ্গে তাদের লালা ও মুত্র মিশে যায়। সেই বাদুড় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই কাঁচা রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ। সরাসরি নিপাহ ভাইরাস নিরাময়ে কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কার হইনি।

৬.এইচআইভি:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) দ্বারা সংক্রমিত এইডস রোগের সূচনা ঘটে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার প্রাইমেটদের মধ্যে। অবশ্য এই ভাইরাসের সহ-দলীয় অন্যান্য ভাইরাস বিভিন্ন সময় মানুষকে আক্রমণ করেছে। এই থেকেই ১৯২০ সালে কঙ্গোর কিনশাসায় বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়।

এইচআইভি দুই ধরনের হয়ে থাকে। এইচআইভি-১ ও এইচআইভি-২ এর মধ্যে এইচআইভি-১ তুলনামূলক বেশি তীব্র এবং সহজেই সংক্রামিত করে। এই ভাইরাসটিই বৈশ্বিকভাবে বেশিরভাগ এইচআইভি সংক্রামনের কারণ। পৃথিবীব্যাপী ছড়ানো এইচআইভি-১ এর সাথে সম্পর্ক পাওয়া গেছে শিম্পাঞ্জির এক প্রজাতির মধ্যে। এই প্রজাতির শিম্পাঞ্জির বসতি মধ্য আফ্রিকার দেশগুলো ক্যামেরুন, বিষুবীয় গিনি, গ্যাবন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র দেশগুলোতে। এইচআইচি-২ অপেক্ষাকৃত কম সংক্রামক এবং পশ্চিম আফ্রিকায় বিস্তৃত। এই ভাইরাসটি আবার দক্ষিণ সেনেগাল, গিনি-বিসাউ, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া এবং আইভরি কোস্টের পশ্চিমে বসতি স্থাপন করা পুরনো বিশ্বের বানরের মাঝে প্রাপ্ত এক ভাইরাসের (Cercocebus atys atys) সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত।

৭.জুনিন ভাইরাসঃ
আর্জেন্টিনার ‘হেমোরেজিক’ জ্বরের সঙ্গে সম্পৃক্ত জুনিন ভাইরাস। সমস্যা হচ্ছে এটির লক্ষণ আরো অনেক রোগের লক্ষণের মতো হওয়ায় শুরুতেই এটি সনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

৮.ক্রিমিয়া-কংগো ভাইরাসঃ
ক্রিমিয়া-কংগো জ্বরের ভাইরাস ‘টিক’ পতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়। এটির লক্ষণ অনেকটা এবোলা এবং মারবুর্গ ভাইরাসের মতোই।

৯.ডেঙ্গু জ্বর ভাইরাসঃ
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস মশার কামড়ে হয়ে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয়দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।

১০.লাসা ভাইরাসঃ
নাইজেরিয়ার একজন সেবিকা প্রথম লাসা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় ৷ ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। তবে ভাইরাসটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ছড়ায়। পশ্চিম আফ্রিকায় এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রবনতা বেশি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সেখানকার ১৫ শতাংশ ইঁদুর লাসা ভাইরাস বহন করছে।

১১.মারবুর্গ ভাইরাস:
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ভাইরাসের নাম মারবুর্গ ভাইরাস। জার্মানির লান নদীর পাশের শহর মারবুর্গের নামে ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়েছে। তবে ভাইরাসটির সাথে এই শহরের কোনো সম্পর্ক নেই। ‘হেমোরেজিক’ জ্বর সৃষ্টিকারী এই ভাইরাসের লক্ষণ অনেকটা এবোলার মতোই। ভয়ানক এই ভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যুর আশঙ্কা ৯০ শতাংশ।

১২.কিয়াসানুর ফরেস্ট ভাইরাস:
ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী বনভূমিতে প্রথম ‘কিয়াসানুর ফরেস্ট ভাইরাস’ বা কেএফডি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা ১৯৫৫ সালে। এই ভাইরাস কিটের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। তবে ঠিক কারা এটা বহন করে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ধারণা করা হয় ইঁদুর, পাখি এবং বন্য শুকর কেএফডি ভাইরাস বহন করে থাকতে পারে।

১৩.হেন্টাভাইরাস:
হেন্টাভাইরাস বলতে অনেক ধরনের ভাইরাসকে বোঝানো যায়। ধারণা করা হয় ১৯৫০ সালে কোরিয়া যুদ্ধের সময় হেন্টা নদীর তীরে অবস্থানকালে মার্কিন সেনারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এতে আক্রান্তের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুসফুসে প্রদাহ, জ্বর এবং কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া।

১৪.করোনা ভাইরাস আতঙ্ক:
বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে অতি রহস্যময় করোনা ভাইরাস।এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে আরও অন্তত সাতটি দেশে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।এখনো কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় এই ভাইরাস কি মহামারি আকার ধারণ করবে নাকি আরও বড় কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে বিশ্ববাসীর সামনে, তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

লক্ষণ:
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে। সেক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কিনা তা এখনো অজানা।

যে প্রাণীর শরীরে বাসা বাঁধার পর ভাইরাস ছড়াচ্ছে তা নির্ণয় করা গেলে সমস্যার সমাধান অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। নতুন করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এর উৎস হচ্ছে উহান শহরে সামুদ্রিক খাবারের পাইকারি বাজার। ধারণা করা হচ্ছে, বেলুগা তিমির মতো সমুদ্রগামী কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী এই ভাইরাস বয়ে এনেছে। তবে বাজারে অহরহ বিচরণ করা মুরগি, বাদুর, খরগোশ, সাপের মতো প্রাণীগুলোও সন্দেহের বাইরে নয়। চীনের জনসংখ্যা ঘনত্ব অনেক বেশি এবং পশুপাখির সহজ সাহচার্যের কারণে দেশটিতে করোনা ভাইরাস সহজেই ছড়াচ্ছে।

এছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীনের উহান শহরে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেও এর দেখা পাওয়া গেছে।

ভাইরাসটির এখনও কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এ কারণে এর ছড়িয়ে পড়া থামানোর আপাতত একমাত্র উপায় হচ্ছে, আক্রান্তদের আবদ্ধ জায়গায় রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা করা।

ঠিক কী হারে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ভাইরাসে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা খবরে প্রকাশিত সখ্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

ভবিষ্যতে হয়তো মানুষ সহ বিভিন্ন পশু পাখি ভাইরাসের মুখোমুখি হবে। এমনও হতে পারে একটি ছোট ভাইরাস ধ্বংস করে দিতে পারে একটি জাতি,সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, এমনকি সমগ্র পৃথিবীকে।

মোঃ সবুর মিয়া

বিজনেস আওয়ার/ ৮ ফেব্রুয়ারি,২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে