করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৩৩০
৩৩
২১
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৫,৩৬,৯৭৯
৯৩,৪২৫
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬


আস্থার সংকট, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

০২:৫২পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ শেয়ারবাজারে চলমান সংকটে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উপর আগেই আস্থা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এরপর সরকারিভাবে নানামুখী পদক্ষেপের পরেও বাজারে একই চিত্র দেখা গিয়েছে৷ চলতি বছরকে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক আশ্বস্ত করার পর দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে আজ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট কার্যদিবসের অর্ধেকের বেশিই পতনের মুখে পড়েছে বাজার। এদিকে রাষ্ট্রীয় ৪ ব্যাংককে শেয়ারবাজারে আনতে অর্থমন্ত্রীর গতকালকের বৈঠকের পর আজ বাজারে ফের পতন হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিনিয়োগকারী বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে রীতিমত খেলা শুরু হয়েছে। বাজারকে স্বাভাবিক করার নামে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তার কোনটাই কাজে দিচ্ছে না। আসল কথা হচ্ছে বাজার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের সবাই দুর্নীতিগ্রস্থ। এটা এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কার। তাই এসব পদক্ষেপের নামে বাজার থেকে ভিন্ন উপায়ে অর্থ লুটপাট হবে কিনা সে শঙ্কায় রয়েছেন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী।

আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, অব্যাহত দরপতনে দেশি বা স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন। ছোট-বড় সব বিনিয়োকারী বুঝে উঠতে পারছেন না বাজার কোথায় গিয়ে শেষ হবে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সবাই। এই অবস্থায় যে করেই হোক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি, ডিএসই সবাইকে মিলে এ কাজটি দ্রুত করতে হবে।

মতিঝিলে একাধিক সিকিউরিটিজ হাউজ ঘুরে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিও খোলার প্রবণতা কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। নতুন করে হিসাব না খোলায় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে না। অন্যদিকে যেসব বিনিয়োগকারীদের পোর্টফলিওর ইক্যুইটি মাইনাসে চলে এসেছে তারা লেনদেন করতে পারছে না। এমন অবস্থায় কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো। ফলে বড় বড় হাউজগুলোতেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। সিকিউরিটিজ হাউজের এরুপ আয় কমে যাওয়ায় এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

বাজার পরিস্থিতি
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট এবং সিডিএসইটি সূচক ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০১৬, ১৪৯১ এবং ৮৮৯ পয়েন্ট।

ডিএসইতে আজ টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৩৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ২১ কোটি ৮ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার।

ডিএসইতে আজ ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৪টির বা ৩৫ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৬৬টির বা ৪৭ শতাংশের এবং ৬৩টি বা ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিমের শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৯৪ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এসকে ট্রিমসের ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকার এবং ১১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ওরিয়ন ইনফিউশন।

ডিএসইর টপটেন লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে : বিকন ফার্মা, এডিএন টেলিকম, এসএস স্টিল, ওয়াইম্যাক্স, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬৩ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৭৮টির, কমেছে ১২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির দর। আজ সিএসইতে ১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/১০ ফেব্রুয়ারি,২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে ১৬ ব্যাংকের বিনিয়োগ
শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ছে

উপরে