করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৩৩০
৩৩
২১
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৫,৩৬,৯৭৯
৯৩,৪২৫
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬


সাগর-রুনি হত্যার আট বছর আজ

১২:১৫পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার আট বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ ঘরে খুন হয়েছিলেন সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। মামলার তদন্ত কয়েক দফা হাত বদলেছে, কিন্তু তা শেষ হয়নি। সবশেষ ৭১ বার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দৃশ্যমান যেটুকু চোখে পড়ে তা হচ্ছে— প্রতিবছর দিনটি এলে সাগর-রুনির সহকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাব বা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান। নিজেদের হতাশা, ক্ষোভ জানান। নিশৃংস হত্যাকাণ্ডের আট বছরে তরুণ সাংবাদিকরা এতটাই বিরক্ত যে তারা এ নিয়ে আর কথাই বলতে চান না।

আর আট বছরের মাথায় এসে নতুন করে হতাশার কথা জানান বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক। সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত দেরির বিষয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, শুধুমাত্র সাংবাদিক দম্পত্তি নয়, একজন সাধারণ মানুষেরও দ্রুত বিচার পাওয়া অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় আমরা আশাহত। তারপরও প্রত্যাশা করব, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রশাসন এ হত্যার রহস্য উন্মোচন করবে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি বেশ কয়েকটি পুরানো মামলা পিবিআই তদন্ত করে রহস্য উন্মোচন করেছে। সাগর-রুনির হত্যার রহস্যও একদিন উন্মোচিত হবে।

দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশে বহু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়ে গেল, অথচ আমাদের দু’জন সহকর্মীর মর্মান্তিক হত্যার বিচার আজও শুরুই হলো না। এ মামলার তদন্ত করে দোষীদের কেন শনাক্ত করা যাচ্ছে না, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।

এ হত্যাকাণ্ডটি সাংবাদিকতার জগতে একটি কালো তিলক হিসেবে থেকে যাবে জানিয়ে শ্যামল দত্ত বলেন, সাংবাদিক মেরে ফেললে আট বছরে তদন্ত শেষ হয় না— এমন ধারণা যখন তৈরি হবে, তখন বহু অপরাধী আরও উৎসাহী হবে। এ রকম উৎসাহী হওয়া মানে আমাদের জন্য ঝুঁকি বেশি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, বাংলাদেশে একটা স্বাভাবিক প্রবণতা হলো সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার না হওয়া। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার লক্ষণও নেই। সাগর-রুনি হত্যার তদন্তের নামে যে কালক্ষেপণ চলছে, তা আমাদের বিস্মিত করেছে। আমরা হতাশ হয়ে যাচ্ছি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার পর সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল মাঠে। সাংবাদিক সমাজ বারবার রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্র এই জায়গায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেনি।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও সাংবাদিকরা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন। আমরা সেগুলোর বিচার চেয়েছি। কিন্তু সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পরে সাংবাদিকদের ওপর নতুন এক ধরনের নির্যাতনের পথ তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমরা এখন সাংঘাতিকভাবে অনিরাপদ বোধ করছি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, বার বার সময় চেয়ে সাগর-রুনি হত্যার বিচার কাজকে বিলম্বিত করা হচ্ছে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’। এর অর্থ, বিচার দেরি করার অর্থ হলো বিচার থেকে বঞ্চিত করা। হচ্ছে তো সেটাই।

রফিকুল ইসলাম আজাদ আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পর হলেও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সাগর-রুনিসহ প্রতিটি সাংবাদিক হত্যার বিচারও একদিন হবে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সাংবাদিকবান্ধব, আশা করি তিনি এ হত্যার বিচারের উদ্যোগ নেবেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচারে আমরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করেছি। ওই সময়ে প্রশাসনে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল, তাদের প্রতিটি আশ্বাসই ছিল মিথ্যা। এ মামলাটি নিয়ে এত 'নাটক' করার কোনো দরকার ছিল না।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সময় ক্ষেপণ নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, এত লম্বা সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখনজক। কী কারণে তদন্ত শেষ হচ্ছে না— এমন প্রশ্ন আমারও জাগে। কাজের গতি দেখে মনে হয় না নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্ত চলছে। এভাবে তদন্ত কাজে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলে মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়।

এদিকে, দীর্ঘ আট বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন হাইকোর্ট। এ মামলার সন্দেহভাজন এক আসামির করা জামিন আবেদনের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালত বলেন, আদালত প্রত্যাশা করে র‌্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচার শুরু করতে সক্ষম হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ করতে না পারলে র‌্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে বলেও মনে করেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওইদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘটনাস্থলে এসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করার কথা বলেছিলেন। ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি তদন্তের জন্য প্রথমে ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম দায়িত্ব নেন।

এরপর ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ওই বছরের ৭ জুন, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর ও সর্বশেষ ২০১৭ বছরের ২১ মার্চ তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে বলে আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়। যদিও এসব অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিটি প্রতিবেদনে প্রায় একই ধরনের তথ্য ছিল। এভাবেই একের পর এক সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার ৮ আসামির দুই জন বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল ও কথিত বন্ধু তানভীর রহমান জামিনে আছেন। অপর ছয় আসামি মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম, এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির ও আবু সাঈদ কারাগারে আটক আছেন। আসামিদের মধ্যে তানভীর জামিনে আছেন। এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার ৮ জনের কেউই এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল হক ও পলাশ রুদ্র পাল ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ ও নিহত দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমানসহ ৫ জন মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণচন্দ্র হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

বিজনেস আওয়ার/১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে