ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬


বাঁচার জন্য ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছিলেন আব্দুল

০৪:৪৪পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (কক্সবাজার) : অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের কাছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন আব্দুল নামের এক যাত্রী।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপের কাছে পাথরে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা যাত্রী ও উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল (২৮) জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করে বাঁচার আকুতি জানান।

কোস্টগার্ডের তৎপরতায় জীবিত উদ্ধার হওয়া আব্দুল বলেন, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়া গ্রাম থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালেরা।

সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে ছেড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে ট্রলারটির তলানি ফেঁটে গিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এসময় দালাল ও মাঝি-মাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়।

আব্দুল আরও বলেন, প্রথমে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। সেখান থেকে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানার নম্বর দেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানান আব্দুল।

আব্দুলের ফোন কলের সূত্র ধরে শাহপরী ও সেন্টমার্টিন থেকে কোস্টগার্ডের দুটি টিম সার্চ শুরু করে। তবে কোস্টগার্ডের অনুসন্ধানী দল খুঁজে পাওয়ার আগে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ভাসমান অবস্থায় ১৫টি লাশ উদ্ধার করে।

এর মধ্যে ১২ জন নারী ও তিনটি শিশু। এছাড়া ৭১ জনকে (৪৬ জন নারী, ২১ জন পুরুষ, ৪ শিশু) জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

জানা যায়, রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা কেউ বিয়ে ও অর্থের লোভে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। আর তাদের পিছনে রয়েছে এক শ্রেণির সক্রিয় দালাল চক্র।

উদ্ধার বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো: জুবাইর জানান, টেকনাফের বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ার সৈয়দ আলম ও নুরুল আলম নামের দুই ব্যক্তি আমাদেরকে ক্যাম্প থেকে নিয়ে আসে। রাতে ওই এলাকা থেকে একটি ট্রলারে ১৩৮ জনকে তুলে দেয়।

সকালের দিকে সেন্টমার্টিন থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি পাথরে ধাক্কা লাগে সাথে সাথে ট্রলারটি সাগরে ডুবে যায়। পরিবারের কথা চিন্তা করে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়া যেতে চাইলাম, কিন্তু আজ সব শেষ হয়ে যেত।

কুতুপালং-৪ শিবিরের রোজিনা আক্তার জানান, তারা মিয়ানমারের রাখাইনে বাড়ি ঘর ও সংসার নিয়ে খুব ভাল ছিল। সেই সব ঘরবাড়ি রেখে এখন ঠাঁই হয়েছে উখিয়ায় পাহাড়ের ঝুপড়ি ঘরে। এনজিও দেওয়া ত্রাণে চলছে পরিবার।

তিনি বলেন, এর মধ্যে বয়সটাও বাড়ছে। বিয়ে তো করতে হবে। অনেক চিন্তা করে পরিবারের সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়া যাওয়ার চিন্তা করি। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে। তার কাছে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিয়ের স্বপ্ন পূরণ দূরে থাক আল্লাহ প্রাণে রক্ষা করেছেন।

বিজনেস আওয়ার/১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে