ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


করোনা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

০৩:৩৯পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : চীনের সঙ্গে বহুকাল ধরেই বাংলাদেশের বহুমাত্রিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে করোনাভাইরাস মহামারি রূপ ধারণ করায় বাণিজ্যিক সম্পর্কে এর প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনদিনের 'ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি' উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ দুশ্চিন্তার কথা জানান।

চীন থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, বিজিএমই'র এমন শঙ্কা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি গভীর সমস্যা, হঠাৎ করে এ বিষয়ে বলা মুশকিল। রেডিমেড গার্মেন্টসের সেক্টরের সাপ্লাইটা হঠাৎ করে কোথায় সোর্সিং করবো!

তারপরও আমরা সব দিকে লক্ষ্য রাখছি। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখছি ফ্যাক্টরিগুলোর সাপ্লাইয়ের দিকে। চায়নায় হলিডে শেষ হয়েছে। আজ খবর পেলাম চায়নার মার্কেটগুলো খুলতে শুরু করেছে। আমরা সেটা অবজার্ভ করছি।

আমরা আশা করছি, বিকল্প বাজার পেয়ে যাব, যদিও সেজন্য সময় দরকার। ‌যে কাঁচামাল আনতে হয় সেটি অন্য কোথাও থেকে পেতে হলে তো সময় দিতে হবে। বায়ারকে এক্সেপ্ট করতে হবে। এটা নিয়ে আমরা একটু দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি বটে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে করোনা ভাইরাসের প্রভাব কি পরিমাণ পড়েছে সে ব্যাপারে খুব সম্ভবত ১৬ তারিখে আমরা একটি রিপোর্ট পাবো। পাশাপাশি আমরা লক্ষ্য রাখছি ফ্যাক্টরিগুলোর সরবরাহের দিকটি।

'রসুনের দাম অনেক বেড়ে গেছে, এছাড়া চীন থেকে অনেক ইলেকট্রনিক্স পণ্য আসে' এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের যে পরিমাণ রসুন প্রয়োজন তার ৯০ শতাংশ চীন থেকে আসে। রসুনের ব্যাপার এক ধরনের, আবার অন্য কাঁচামাল ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উপর যদি প্রভাব পড়তে শুরু করে সেটা অন্য রকমের ভাবনার বিষয়।

আমরা চেষ্টা করবো বিকল্প বাজার থেকে রসুন সংগ্রহ করতে। তবে কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা হবে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনই আমাদের বলার সময় আসেনি, দেখি বড় ধরনের বিপদ আসে কিনা।

রসুনের দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বাজার মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বাজার মূল্যের তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে বিক্রি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে চীন কাজ করছে, এক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব চীনা নাগরিক বাংলাদেশে আসছে আমরা তাদেরকে দেখছি, তাদেরকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যারা এসেছেন তাদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ২ মিটারের মধ্যে থাকলে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইমপোর্টেড যে কাপড় বানানো জিনিস তার ওপরে করোনাভাইরাসের প্রভাব নেই।

কিন্তু মানুষ কাজ করতে যাবে সেখানেই সমস্যা। মানুষ কাজ না করলে প্রোডাকশন হবে কেমন করে? জিনিসপত্র আনলে সেখানে সমস্যা নেই। কিন্তু ওখান থেকে তো সাপ্লাইটা শুরু হতে হবে।

বিজনেস আওয়ার/১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে