করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
২১৮
৩৩
২০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৪,২৯,৪৩৭
৮২,০৭৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬

অর্থসংকটে সরকার

৭ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ

১০:৪২এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সরকারের গৃহিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ চাহিদা বাড়ছে। উন্নয়ন ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। অর্থ সংকট কাটাতে ঝুঁকতে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ উৎসের প্রতি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতই অগ্রাধিকার পেয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষ হতে আরও পাঁচ মাস বাকি থাকলেও সরকার লক্ষ্যমাত্রার পুরো টাকার চেয়েও প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি নিয়ে ফেলেছে। ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত অর্থবছরের (২০১৮-২০১৯) জুলাই থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত (৭ মাসে) সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিয়েছিল মাত্র ৫৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) একই সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৩ হাজার ২১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৫২ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এই টাকার পরিমাণ গত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যে ঋণ নিয়েছিল, তারচেয়েও ২৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা। কিন্তু মাত্র সাত মাসেই পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৫ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন খাত শ্লথ হয়ে পড়ায় সরকারের রাজস্ব আয় কমে গেছে। ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর—সব ক্ষেত্রেই আদায় কম। আয় কমে যাওয়ায় এখন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। সরকারের হাতে আছে একগুচ্ছ বৃহৎ প্রকল্প, আছে দৈনন্দিন খরচ। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়াচ্ছে সরকার। সব মিলিয়ে সরকার পরিচালনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ব্যয়ের খাত বড় হলেও আয়ে রয়ে গেছে বড় ঘাটতি।বাড়েনি রাজস্ব আদায়ের পরিধি।

বর্তমানে ১১টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা আছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। বেশির ভাগ বড় প্রকল্পেই খরচ ও বাস্তবায়নের সময় বেড়েছে। এতে এর অর্থনৈতিক উপযোগিতাও কমছে। আবার সরকার এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি সহায়তার তুলনায় স্থানীয় উৎস থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। এই অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। ফলে প্রকল্পে একেকটি বালিশের দাম পড়ছে ৬ হাজার টাকা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বই কেনা হচ্ছে ৮৫ হাজার টাকায়, আর পর্দার দাম হয়ে যাচ্ছে ৩৭ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি ছিল ৮৮ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে (১২ মাসে) নতুন করে সরকার ব্যাংক থেকে ৭২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সরকারের নেওয়া ৫৩ হাজার ২১১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৪ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকাই নিয়েছে বেরসকারি ব্যাংক থেকে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৮ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের সবচেয়ে বেশি ধার করার রেকর্ডটি ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের। তবে ওই অর্থবছরে ধার নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। অথচ এই অর্থবছরের সাত মাসেই পুরো অর্থবছরের টাকা নেওয়া শেষ করেছে সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযাযী, ব্যাংক থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের চেয়ে সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ২৭ শতাংশ ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে এখন ৯ শতাংশের ঘরে নেমেছে। আর সরকারি খাতে ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৯ দশমিক ৮১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

এদিকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় আশানুরূপ ঋণ পাচ্ছে না বেসরকারি খাত। গত কয়েক মাস ধরে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এই হার গত দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের নভেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ। যা আগের মাস সেপ্টেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

বিজনেস আওয়ার/১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে