ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


হত্যা নয়, সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিলেন

১২:৫১পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে পিআইবি। তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সালমান শাহ পারিবারিক কারণে মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন পিবিআই'র প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সালমান শাহর হত্যার রহস্য উদঘাটন নিয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পিবিআই'র প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর আমরা তদন্ত ভার গ্রহণ করি। ২৫ বছর কেটে যাওয়ায় পিবিআই'র অনেক বেশি সময় লেগেছে। এই মামলায় ৪৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছি।একজন সাক্ষীকে ২০-৩০ বারবার ডেকে নিয়ে জবানবন্দি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এরমধ্যে ১০ জনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। একজন সাক্ষীকে অন্তত ১০ বার ডেকে নিয়ে এসেছি। কারণ সেই সময়ের স্মৃতি কতটুকু তাদের মনে আছে।

পিবিআই প্রধান বলেন, সেই সময়ের একটি সুইসাইডাল নোট উদ্ধার করা হয়। আমরা সেটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টকে আমরা সুইসাইট নোটটি দেখিয়েছি। উনি হাতের লেখা দেখে-তা সালমান শাহর বলে চিহ্নিত করেছেন। সালমান যে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন, আমরা সেটি জব্দ করেছি।

উল্লেখ্য, ৪ বছরে ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭টি সিনেমার নায়ক সালমান শাহ। এত কম সংখ্যক সিনেমায় অভিনয় করেও নব্বই দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক হয়ে উঠেছিলেন সালমান শাহ।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলায় অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান। তার পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তিনি ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন হলেও সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন শুধুই সালমান শাহ।

ছোট বেলা থেকে অভিনয়ে আগ্রহী সালমান শাহ ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন। এরপর বেশ কিছু নাটকে অভিনয়ও করেছেন সালমান। নাটকে কাজ শুরু করার ৭ বছর পর, নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর আলমগীরের সন্ধানে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান সালমান শাহ।

মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে নিজের প্রথম 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমায় সাড়া ফেলেন। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি সালমান শাহকে, চলচ্চিত্র জীবনে ছুঁয়ে গেছেন জনপ্রিয়তার সবটুকু আকাশ।

শাবনূরের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন ১৪টি সিনেমায়। উপহার দিয়েছেন বাংলা সিনেমার অন্যতম সেরা সময়। তবে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর শুক্রবারের সকালে রহস্যজনক এক কারণে জীবন সংসারের ইতি টানেন সালমান শাহ। রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এরপর র‍্যাব তদন্ত করে। তবে র‍্যাবেরদ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে।

২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‍্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তারপর মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে। দীর্ঘ তদন্তের পর সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পিবিআই এ তথ্য জানাল।

বিজনেস আওয়ার/২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে