ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


তেল খালাসে সমুদ্রের নিচে তৈরী হচ্ছে পাইপলাইন

০৭:০০পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : তেল খালাসের জন্য সময় লাগত ১১ দিন এখন তা হবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। এই প্রক্রিয়ার জন্য চীনের অর্থায়নে চলছে, গভীর সমুদ্রের নিচ দিয়ে পাইপ লাইনের নির্মাণ কাজ। যদিও এই প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি পেতে, তেল পরিশোধনাগার নির্মাণ কাজে নেই অগ্রগতি। বিপিসির চেয়ারম্যান বলছেন, দ্রুতই সব সমস্যার সমাধান করবেন তারা।

দেশের য়ে পরিমাণ ডিজেল-পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে তার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। বাকিটা পরিশোধিত তেল অপেক্ষাকৃত বেশি দামে আমদানি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

এই তেলের পুরোটাই আমদানি হয় সমুদ্র পথে। চট্টগ্রাম বন্দরে নাব্য সঙ্কট থাকায় গভীর সমুদ্রে আসে বড় জাহাজ। তারপর তা খালাস করে ছোট ছোট জাহাজে আনা হয় পরিশোধনাগারে। যা ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। এই সমস্যা থেকে বের হতে, সমুদ্রের নীচ দিয়ে পাইপ লাইন বসানো শুরু করেছে বিপিসি। চীনের ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। সমুদ্রে ১৫৪ কিলোমিটার আর স্থলভাগে বসবে আরও ৭৪ কিলোমিটার ডাবল পাইপ লাইন। বিপিসির চেয়ারম্যান সামছুর রহমান বলেন, আমরা অল্পসময়ে মাত্র ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই পাইপলাইনের সাহায্যে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব, যেটি আগে ৩-৪দিন সময় লাগত এবং এতে খরচের পরিমাণ নাই বললেই চলে। পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত বা অন্যকোন কারণে তেলেই সাপ্লাই লাইনে কোন রকম ইন্টারাপশন হবে না।

চলমান পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে জাহাজ আসবে মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালীতেই স্টোরেজ ট্যাঙ্কে আনা হবে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল। পরে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে তেল আসবে চট্টগ্রামের ইস্টান রিফাইনারিতে। কিন্তু সেই তেল পরিশোধন করতে রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলছে ঢিমেতালে। প্রকল্পের মূল কাজই শুরু হয়নি এখনও।

গত সপ্তাহেই কুতুবদিয়া চ্যানেলে দেখা মেলে, পাইপলাইন বসানোর বিশেষায়িত জাহাজ হাইলং-ওয়ান জিরো সিক্সকে। পুরো প্রকল্প শেষ করতে সময় ৩ বছর। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রে বিশেষায়িত কারিগরি জ্ঞান আর প্রযুক্তিগত দক্ষতায় বসানো হচ্ছে পাইপ।

এ বিষয়ে,বিপিসির সূত্র বলছে, চীনা শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের কেউ ছুটিতে না থাকায় করোনাভাইরাসের কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই এই প্রকল্পে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা চীনের অর্থায়নে বঙ্গোপসাগরের তল দেশ দিয়ে প্রায় দেড় শ’ কিলোমিটার পাইপলাইন বসাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

বিজনেস আওয়ার/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে