করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
২১৮
৩৩
২০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৪,২৯,৪৩৭
৮২,০৭৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬


পাপিয়া এমপি হতে চেয়েছিলেন!

১০:৫০এএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া। এর জন্য তিনি ১০ কোটি টাকাও খরচ করেছেন। রিমান্ডে থাকা পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন চৌধুরীর বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি বড় অংকের টাকাও বিনিয়োগ করেন। কিন্তু যারা পাপিয়াকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারা ব্যর্থ হন। ওইসব নেতা মোটা অংকের টাকা নিয়েছিলেন পাপিয়ার নমিনেশন পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করার জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করার সাহসই পাননি তারা।

রিমান্ডে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাপিয়া জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর যুব মহিলা লীগ, আওয়ামী লীগ, কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি এবং সভাপতিমণ্ডলীর বেশকয়েকজন নেতাকে পাপিয়া অন্তত ১০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। বিনিময়ে চেয়েছিলেন নরসিংদী থেকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন। সেটি না হওয়ায় ওই বিনিয়োগটি বিফলে যায়। প্রচণ্ডভাবে মানসিক বিষন্নতায় পড়েন পাপিয়া।

শুরু হয় তার আগের চেয়ে বেপরোয়া জীবন-যাপন। এভাবেই এক সময় তিনি অপরাধ জগতের সম্রাজ্ঞী বনে যান। একের পর এক অপরাধ কর্মে লিপ্ত হতে শুরু করেন। আর তাকে এসব কাজে সহযোগিতা করেন স্বামী সুমন চৌধুরী ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা।

গোয়েন্দারা জানান, পাপিয়া নিজস্ব ক্যাডারবাহিনী কিউ অ্যান্ড সি'র সদস্যদের দিয়ে মাফিয়া প্রধান হয়ে যান। এরা মাদক, চাঁদা, মাসোহারা আদায়, তুলে এনে টাকা আদায়, অনৈতিক কাজ করানো এবং জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে পাপিয়ার হাতে দিতেন। সেই টাকা দিয়ে সে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি ও প্লট কিনেছে।

এছাড়া পাঁচ তারকা হোটেলে বসে মাস্তি করতো। সেখানেও কম বয়সী তরুণীদের জোর করে ধরে এনে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করতো। বড় বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তরুণীদের গোপন মেলামেশার ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করতো পাপিয়া। এভাবে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো পাপিয়া-সুমন দম্পতি।

গোয়েন্দা পুলিশ গত তিন দিন ধরে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কখনো এককভাবে আবার কখনো দুজনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দুই সহযোগী সাব্বির ও তায়্যিবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দারা।

সাব্বির ও তায়্যিবার বরাত দিয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, সাব্বির সবসময় সুমন চৌধুরীর পিএস হিসেবে কাজ করতো। আবার কখনো পিস্তল পকেটে বডি গার্ডের দায়িত্ব পালন করতো। অন্যদিকে শেখ তায়্যিবা পাপিয়ার দেহরক্ষী বা পিএস হিসেবে কাজ করত। এমনকি তায়্যিবা কেও বড় নেতাদের কাছে মাস্তি করার জন্য পাঠাতেন বলে জানিয়েছে তায়্যিবা।

পাপিয়া ও সুমন চৌধুরীর অপরাধ জগত সম্পর্কে তায়্যিবা পুলিশকে জানিয়েছে, অনেক সময় চাহিদা মত থাই, নেপালি, ইন্ডিয়ান, ভুটানি ও রাশিয়ান মেয়েদের নিয়ে আসা হতো। তাদের উচ্চমূল্যে বিভিন্ন কাস্টমারের কাছে পাঠানো হতো। গত একবছর থেকে তায়্যিবাকে কোথাও পাঠাতেন না পাপিয়া। এছাড়া বিমানবন্দরে কোনো ঝামেলা হলে সুমন চৌধুরী ও পাপিয়া সেই ঝামেলা মেটাতেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত পাপিয়ার অন্ধকার জগতের বেশকিছু তথ্য মিলেছে। সেগুলোর আরও যাচাই-বাছাই চলছে। অর্থের উৎসের খোঁজ খানিকটা মিলেছে। তবে এর পেছনে আর কেউ জড়িত কিনা তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

পাপিয়ায় বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, পাপিয়াসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে তারা। সেসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অর্থ পাচারের বেশকিছু তথ্য মিলেছে। অর্থ পাচারের মামলাটি সিআইডি দেখবে। ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের তথ্যও মিলেছে। রিমান্ডের আরও সময় বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।

বিজনেস আওয়ার/২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

৭৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ
করোনা: প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

উপরে