ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬


লাল বেনারসিতে লাশ হয়ে ফিরলেন সুইটি

১০:৩৫এএম, ০৯ মার্চ ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (রাজশাহী) : পরনে লাল বেনারসি, হাতে মেহেদীর রঙ। সবই আছে, নেই শুধু নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার (২০) প্রাণ। পদ্মায় নৌকাডুবিতে অকালেই পাড়ি জমালেন ওপারে। স্বামীর ঘরে একদিনের সংসার করে বাবার বাড়ি ফেরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির ৫৯ ঘণ্টা পর সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে সন্ধান মেলে সুইটির।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কাটাখালির শাহাপুরে পদ্মার বুকে ভেসে ওঠে তার মরদেহটি। উদ্ধার সুইটি রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহীন আলীর মেয়ে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন বর আসাদুজ্জামান রুমনসহ ৩২ যাত্রী। তারা সবাই নববধূ পূর্ণিমার পরিবারের।

নৌ-পুলিশের রাজশাহী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রোববার রাত ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত করা হয়। সোমবার সকালে ফের নদীতে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঠিক সে সময় খবর মেলে- শাহাপুরে নববধূর মরদেহ ভেসে উঠেছে। সেখানে গিয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মোট নয় জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৯ জনকে। নৌকাডুবির ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই, সকলের সন্ধানই মিলেছে। ফলে পদ্মায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতরা হলেন- কনের দুলাভাই রতন আলী (৩২), চাচাতো বোন মরিয়ম (৮), চাচা শামীম (৪০), চাচি মনি খাতুন (৩৫), তাদের মেয়ে রোশনি (৭), কনের খালাতো ভাই এখলাস হোসেন (২২), কনের ফুফাতো বোন রুবাইয়া খাতুন স্বর্ণা (১৩) ও খালা আঁখি খাতুন।

হতাহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পদ্মার ওপারে পবা উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের রুমন আলীর (২৬) সাথে এপারের ডাঙেরহাট গ্রামের সুইটি খাতুনের (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুইটি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) কনেপক্ষ বরের বাড়ি থেকে নবদম্পতিকে আনতে যায়।

সন্ধ্যার কিছুসময় আগে তারা বরের বাড়ি থেকে বের হয়ে দু’টি নৌকায় করে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে নগরীর শ্রীরামপুরের বিপরীতে নদীর মাঝামাঝি স্থানে নৌকা দুটি ডুবে যায়। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বিজনেস আওয়ার/০৯ মার্চ, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে