করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
২১৮
৩৩
২০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৪,২৯,৪৩৭
৮২,০৭৩
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬


করোনায় ফের ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের

০৪:২৪পিএম, ২১ মার্চ ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : করোনা আতঙ্কে রাজধানীর বাজারে হুট করে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজির পেঁয়াজের দাম কমতে কমতে যখন ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে এসেছে, ক্রেতারাও একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন। এ সময় আবার ঝাঁজ ছড়াতে শুরু করেছে পেঁয়াজ।

গত তিন দিনে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে খাদ্যসংকটের দুর্ভাবনায় চলছে নিত্যপণ্য মজুত। এরই ধারায় ক্রেতাসাধারণের পেঁয়াজ কেনাও গেছে বেড়ে। অথচ পেঁয়াজের সরবরাহে এখন কোনা ঘাটতি নেই।

বাজারে দেশে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ আসছে, ভারত থেকেও চলছে আমদানি। উৎপাদিত পেঁয়াজের বড় অংশ এখন ব্যবসায়ীদের গুদামে। সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য যা যথেষ্ট। এরপরও ব্যবসায়ীরা তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন।

৩৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। শুধু পেঁয়াজ নয়, দাম বেড়েছে রসুনেরও। প্রতি কেজি রসুন ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ শনিবার সকাল ছয়টা থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর পেঁয়াজের আড়তে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এতে ওই বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকায় নেমে এসেছে। রসুনের দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার ও মিরপুর এক নম্বর কাঁচাবাজার এবং অন্যান্য খুচরো বাজারে পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর সব কটি সুপার স্টোর ও মুদি দোকানেও পেঁয়াজের কেজি একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

করোনা নিয়ে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পর গত বুধবার থেকে বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে থাকে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারের মধ্যে দাম এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে- দেশে যথেষ্ট খাদ্যপণ্যের মজুত আছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই—এমন বক্তব্য দেওয়া হলেও তা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না; বরং প্রতিদিনই বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়েই যাচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে দেশের বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের মূল্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংস্থাটির গতকালের হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে।

মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা স্কুল শিক্ষিকা জন্নাতুল ফেরদৌস জানান, গত বুধবার পেঁয়াজ কিনেছি ৪০টাকা আর আজ সেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৮০টাকা। এটা যেন মগের মুল্লুক। মুনাফাখোর ব্যাবসায়ীরা বারবার সুযোগ নেয়। এটা বন্ধ করা উচিৎ।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি পেয়াজের দাম নিয়ন্ত্রন না করতে পারে তাহলে আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। গতবার যেমন হুটকরে পেয়াজের দাম বেড়ে গেল, সেবার পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করেদিয়েছিলাম। এবারও তাই করছি, পেয়াজন না কিনেই বাসায় ফিরছি।

ক্ষোভের সাথে এই শিক্ষিকা আরও বলেন, আল্লাহ না করুক- দেখবেন করোনায় যদি ইটালি বা চীনের মতো মানুষ মারা যায়, তাহলে কাফনের দামও বেড়ে যাবে। সরকারের উচিৎ এসব অসৎ ব্যাবসায়ীদেরদ্রুত আইনের আওতায় আনা।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত ৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। করোনার কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না।

বিজনেস আওয়ার/২১ মার্চ, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে