businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬


২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’

০৭:৪৮পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

বিজনেস আওয়ারঃ আগামী ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সব ২০১৭’। ষষ্ঠ এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে। যথারীতি বাংলাদেশ ও ভারতের প্রথম সারির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্পী বৃহৎ এ উচ্চাঙ্গসংগীত আসরে অংশ নেবেন। আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ বছর উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সবের সব আয়োজন চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে স্থান-বরাদ্দ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় উত্সবটি দেশের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছে, তা আমাদের প্রয়াসে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত স্থান বরাদ্দ না পাওয়ায় এবং উত্সবের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা অনন্যোপায় হয়ে গত ২২ অক্টোবর উত্সবের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করি। এর পরপর ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে উৎসবের পক্ষে জনসমর্থনের যে জোয়ার বয়ে যায়, তা নিষ্ঠায় ও ভালোবাসায় প্রেরণাসঞ্চারী হয়ে ওঠে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংকের জারা মাহবুব প্রমুখ। আবুল খায়ের বলেন, ‘এ উৎসব বেঙ্গলের নয়, এটা একটি জাতীয় উৎসব, মানুষের উৎসব। এ উৎসবের অনুমতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। এই আবাহনী ক্লাব তাঁর ক্লাব, শেখ কামালের ক্লাব। আমি ছয় বছর এর প্রেসিডেন্ট ছিলাম।’ অঞ্জন চৌধুরী জানান, যত দিন এ উৎসব হবে, তত দিন স্কয়ার এ উৎসবের সঙ্গে থাকবে।

২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ধানমন্ডি আবাহনী মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান এবং স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংস্কৃতিমন্ত্রীর আহ্বানে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উত্সবে আগত দর্শক-শ্রোতা-শিল্পী ও ভেন্যু নিরাপত্তা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আলোচনা হয়। আবাসিক এলাকায় রাতব্যাপী সংগীতানুষ্ঠানের শব্দ-সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সংস্থা ব্লুজ কমিউনিকেশনসের পক্ষ থেকে আবাহনী মাঠে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে শব্দ-সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহারিক নিরীক্ষা করা হয়; যা সবাইকে সন্তুষ্ট করে।

উৎসবের প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন
২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ৩০ ডিসেম্বর শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরদিন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। প্রতিবারের মতো অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিনা মূল্যে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যাবে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি (সম্ভাব্য ১৮ ডিসেম্বর) সীমিত সময়ের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ধানমন্ডিতে জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠে (বাড়ি নম্বর ৬০, সড়ক নম্বর ৭ /এ, ধানমন্ডি) সশরীরে গিয়েও নিবন্ধন করা যাবে। তবে উৎসবস্থলে কোনো নিবন্ধন করা যাবে না। প্রতিবারের মতো প্রতিদিন যথারীতি রাত ১২টায় উৎসবের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ভেন্যুর ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে বা অন্য যেকোনো বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাত ১২টার আগেই গেট বন্ধ করতে পারে।

এ বছর যাঁরা আসছেন
উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সবের ষষ্ঠ এ আসরে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন মেওয়াতি ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত যশরাজ (খেয়াল), ১৯৯৩ সালে গ্র্যামিবিজয়ী পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট (মোহন বীণা), গ্র্যামি-মনোনীত বিদুষী কালা রামনাথ (বেহালা), দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গ্র্যামিবিজয়ী পদ্মভূষণ বিদ্বান ভিক্কুবিনায়করাম (ঘাটম), বিশিষ্ট ওডিশি নৃত্যশিল্পী সুজাতা মহাপাত্র, পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখার্জি (সেতার), পণ্ডিত কৈবল্যকুমার গুরভ (খেয়াল), সাসকিয়া রাও (চেলো) এবং কত্থক নৃত্যদল অদিতি মঙ্গলদাস ডান্স কোম্পানি প্রমুখ।

শিল্পীদের এ মিলনমেলা আলোকোজ্জ্বল করবেন বিদুষী পদ্মা তলওয়ালকার (খেয়াল), পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার (সরোদ), মাইসোর মঞ্জুনাথ (বেহালা), পণ্ডিত রনু মজুমদার (বাঁশি), পণ্ডিত কুশল দাস (সেতার), পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস (সরোদ), রাকেশ চৌরাসিয়া (বাঁশি), পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায় (সেতার), রাজরূপা চৌধুরী (সরোদ), আবীর হোসেন (সরোদ) প্রমুখ। এ ছাড়া উৎসবের মধ্যমণি হিসেবে থাকবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, ওস্তাদ রাশিদ খান, পণ্ডিত উলহাস কশলকার, ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান প্রমুখ। তবলায় সংগত করবেন পণ্ডিত অভিজিৎ ব্যানার্জি, পণ্ডিত শুভংকর ব্যানার্জি, পণ্ডিত যোগেশ সামসি প্রমুখ।

নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের যে শিল্পীরা
এ উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রতিভাবান নবীন নৃত্যশিল্পী। এঁরা হলেন সুইটি দাশ, অমিত চৌধুরী, স্নাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা শ্যামাপ্রভা ও মেহরাজ হক। সংগীত পরিবেশন করবেন সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয় ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। থাকবে দলীয় সেতার, তবলা ও সরোদবাদন; সুপ্রিয়া দাসের খেয়াল; অভিজিৎ কুণ্ডুর ধ্রুপদ। এ ছাড়া সেতারে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করবেন স্বনামধন্য শিল্পী ফিরোজ খান, বাঁশিতে গাজী আবদুল হাকিম।

নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তথ্য
উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে কোনো ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। অপেক্ষমাণ মানুষের দীর্ঘ সারি এড়াতে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে মাঠে উপস্থিত হতে অনুরোধ করেছেন আয়োজকেরা। প্রবেশের সময় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাতল্লাশি করা হবে। ফলে সঙ্গে কোনো প্রকার শনাক্তকরণ পরিচয়পত্র রাখার জন্যও অনুরোধ করেছেন তারা। এ ছাড়া কোনো ক্যামেরা, খাবার, পানীয় বা ধূমপানের সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। মাঠে একাধিকবার প্রবেশ ও প্রস্থান করা যাবে না, সঙ্গে আনা যাবে না ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের। আবাহনী মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।

এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সব ২০১৭-এর নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ এবং আয়োজন সমর্থক হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই, মেডিকেল সহযোগী স্কয়ার হাসপাতাল, ইভেন্ট ব্যবস্থাপক ব্লুজ কমিউনিকেশনস এবং আয়োজন সহযোগী ইনডেক্স গ্রুপ, বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল বই ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়। সার্বিক সহযোগিতায় পারফেক্ট হারমনি, সিঙ্গাপুর।

বিজনেস আওয়ার/রিয়াদুল ইসলাম

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে