businesshour24.com

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি

শাস্তির সুপারিশের পরও অব্যাহতি পেলো ১১ আসামি !

০৯:১৫এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা, আত্মঘাতী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সিটিটিসি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

তবে আসামি সিদ্দিকুর রহমান, নাজমুল হক ও শাহ আলম তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে প্রধানমন্ত্রীর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতো না। ৬ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন

বিমানে ত্রুটি হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ, সিভিল এভিয়েশন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আসামিদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিয়োজিত উড়োজাহাজটির ওয়েল প্রেসার সেনসার পরিবর্তনের কাজটি করেন সিদ্দিকুর রহমান এবং সহযোগিতা করেন মেকানিক শাহ আলম। ওই সময় ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হক পরীক্ষার জন্য তিনবার ভেতরে প্রবেশ করেন।

উড়োজাহাজ একটি আকাশ পথের পরিবহন, যাতে শত শত লোক দেশ-বিদেশে গমন করে থাকেন। এমন একটি পরিবহনের রক্ষাণাবেক্ষণের কাজ করায় আরও মনোযোগী হওয়া উচিত।

উড়োজাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিতদের অধিক মনোযোগী ও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। কারণ প্রধানমন্ত্রীর প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তো।

মামলার সার্বিক তদন্তে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা, আত্মঘাতী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।

যাদের অব্যাহতির প্রদানের আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে।

ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এর আগে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়।

বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।


বিজনেস আওয়ার / ১১ ডিসেম্বর / এমএএস

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

২শ জনকে বাংলাদেশে না আসার নির্দেশনা
পর্যবেক্ষণে পদ্মাসেতু প্রকল্পের ২২ চীনা নাগরিক

স্ট্যাটাস দিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
'পাত্রীর মা ভালো না হলে, পাত্রী ভালো হবে না'

উপরে