businesshour24.com

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬


তবুও নির্লিপ্ত সাকিব আল হাসান

১০:১৮এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: ২০১১ সালে নেতৃত্ব হারান সাকিব আল হাসান। তার আগে দুই বছর তিনি টাইগারদের দলনেতা ছিলেন তিন ফরমেটেই। তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয় ব্যর্থতার দায় নিয়ে। পরের দুটি বছর সাকিব জড়িয়েছেন নানা বিতর্কে। সবশেষ ২০১৪ সালের জুন মাসে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শক পিটিয়ে নিষিদ্ধ হন। লিখিত ক্ষমা চেয়ে শাস্তির মেয়াদ তিন মাস কাটিয়ে ফের দলে ফিরেন। পরের দুটি বছর কাটে সাকিবের ভালোমন্দে। তবে এবার আর বড় কোনো বিতর্কে জড়াননি নিজেকে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব ফিরে পান। এবার তার হাতে তুলে দেয়া হলেন ফের টেস্ট দলের দায়িত্বও। এত প্রাপ্তিতে কতটা উচ্ছ্বসিত সাকিব? না, কোনো উচ্ছ্বাস বা বাড়তি কোনো আবেগ দেখা গেল না তার কণ্ঠে। এমনকি ভুলেই গেছেন নাকি তার প্রথম নেতৃত্বের সময়টা! গতকাল ঢাকা ডায়নামাইটসের অনুশীলনে সাকিব বলেন, ‘আমার তো ওটাই মনে নাই, কী হয়েছিল?’ নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কথাটি মনে করিয়ে দিতেই ভাবলেশহীন সাকিব বলেন, ‘ঠিক আছে, জীবনে কত কিছুই তো হয়।’

তবে নেতৃত্ব পাওয়ার পর ভালো করার প্রত্যয়টি জানাতে অবশ্য ভুল করেননি। সাকিব বলেন, ‘নতুন দায়িত্ব। টেস্টে গত কিছুদিন আমরা ভালোই করেছি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিতলাম, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতলাম এখানে। এই জায়গা থেকে কতটা ভালো করা যায়, সে চেষ্টাই থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘বলা মুশকিল কতটা পরিবর্তন আসবে। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’ সাকিবের কাছে অবশ্য নেতৃত্বটা প্রত্যাশিত ছিল না বলেই জানান তিনি। সাকিব বলেন, আমি কোনো কিছু প্রত্যাশা করি না। কিছু ছেড়েও দেই না। এলে ভালো, না এলে ঠিক আছে।’


সাকিব আল হাসানের সামনে এবার অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে। কারণ সামনের দুটি বছর দেশের চেয়ে বিদেশের মাটিতে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশ দলকে। দেশের বাইরের চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে আগামী বছর জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। অবশ্য তার আগেই দেশের মাটিতে জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার নেতৃত্বে শুরু হবে টেস্ট লড়াই সেখানে। সেখানে লঙ্কান দলই নয়, তার অন্যতম প্রতিপক্ষ হবে সাকিবদের সদ্য বিদায়ী কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। যার বাংলাদেশের কোচের পদ থেকে দায়িত্ব ছাড়ার অনেক কারণের একটি সাকিব। সেই চন্ডিকাই এবার লঙ্কানদের কোচ হিসেবে বাংলাদেশে আসবেন। এ নিয়ে সাকিব বলেন, জানি না তো, এখন আপাতত বিপিএল চ্যালেঞ্জ নিয়ে আছি।

বিপিএল শেষ হোক, জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলে দেখা যাবে কি কি চ্যালেঞ্জ আছে। যখন পরিকল্পনা করা হবে, তখন বোঝা যাবে। প্রতিটি টুর্নামেন্ট বা সিরিজই কঠিন। সেটা দেশে হোক বা বাইরে। হয়তো দেশে একটু স্বস্তি বোধ করি আমরা। বিদেশে যেহেতু সাফল্য নেই, সেহেতু আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে এটাও সুযোগ ভালো কিছু করার। কোনো না কোনো কিছু তো কেউ না কেউ শুরু করবে। যদি শুরু হয়, তাহলে খারাপ কী! যদিও কাজটা কঠিন। কিন্তু আমাদের যে দল আছে, আমরা যেভাবে খেলছি, অনেক কিছু করা সম্ভব।’ অবশ্য হাথুরুসিংহের বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। সাকিব বলেন, ‘এটা একজনের ব্যক্তিগত কথা। এটা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত হবে না।’

এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে টেস্ট থেকে ৬ মাসের ছুটি চেয়েছিলেন সাকিব। সেই হিসেবে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজেও তিনি টেস্ট খেলতে চান নি। তবে এখন অধিনায়ক হওয়াতে খেলতেই হবে। তাই ছয় মাসের ছুটি নিয়ে বলেন, ‘দেখা যাক, কী হয়।’ সাকিব জাতীয় দলের নেতৃত্বকে উপভোগের চেয়ে দায়িত্বই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘উপভোগের চেয়ে বেশি আমার কাছে মনে হয় এটা দায়িত্ব। দায়িত্বটি অবশ্যই চেষ্টা থাকবে সেরা ভাবে যেন পালন করতে পারি।’ অবশ্য জানিয়েছেন দায়িত্ব পালনে তার সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহই নয়, নির্ভর করতে চান দলের আরো সিনিয়র ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার ওপর। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজনই আছি, যারা দলের নেতা। এবং যেকোনো সিদ্ধান্তই আমরা একসঙ্গে মিলেই নেই। কেউ অধিনায়ক থাক বা না থাক, সেটা ব্যাপার নয়- যখন আমরা মাঠে খেলতে নামি সবার সাহায্যই দরকার হবে। আর রিয়াদ ভাই তো কয়েক বছর ধরেই বিপিএলে ভালো অধিনায়কত্ব করছেন। নেতৃত্বগুণ তার ভেতর অনেক আগে থেকেই আছে। আমার কাছে মনে হয়, আমার জন্য কাজটি সহজ হবে।’

বিজনেস আওয়ার ২৪/এস আই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে