businesshour24.com

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬


মাশরাফির মুখেই শেষ হাসি!

০৯:৪৫পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ বিপিএলের ৫ম আসরের ট্রফি কার হাতে যাবে প্রশ্ন ছিলো এমনটাই ? চতুর্থ বারের মত মাশরাফি নাকি দ্বিতীয় বারের মত সাকিবের হাতে ? কে হাসবেন শেষ হাসি, সাকিব নাকি মাশরাফি ? তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় ক্রিকেটার রংপুরের ক্যাপ্টেম মাশরাফিই হাসলেন শেষ হাসি। চতুর্থ বারের মত বিপিএলের ট্রফি নিজের করে নিলেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেট লিজেন্ড।

রংপুর রাইডার্সের দেয়া ২০৭ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস। গেইলের ব্যাটিং তান্ডবের পর রংপুরের বোলারদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে ঢাকার ব্যাটসম্যানরা।

স্কোর বোর্ডে রান যোগ হওয়ার আগেই উইকেট হারায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটস। দলীয় ১ রানেই নেই ২ উইকেট। প্রথম ওভারেই মেহেদী মারুফকে (০) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। পরের ওভারে জো ডেনলিকে (০) রানে সাজঘরে পাঠান সোহাগ গাজী।

চতুর্থ ওভারে দলীয় ১৯ রানের মাথায় সোহাগ গাজীর বলে লং-অনে মাশরাফির চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন ১৫ রান করা লুইস। স্কোর বোর্ডে আরও ১০ রান যোগ হতেই রুবেল হোসেনের বলে গেইলের হাতে ধরা পড়েন পোলার্ড (৫)। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ঢাকা।

তবে ঢাকার দলপতি সাকিব ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন জহুরুল ইসলামকে নিয়ে। কিন্তু ৪২ রানের জুটি গড়ে তিনিও ফিরলেন। ১৬ বলে তিন চার ও ১ ছয়ে ২৬ রানে নাজমুল ইসলামের কাছে বোল্ড হন সাকিব। ঢাকার স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৭১।

তিন রান যোগ হতেই মোসাদ্দেক হোসেনের (১) স্ট্যাম্প ভাঙেন রবি বোপারা। শহীদ আফ্রিদিকে (৮) ফিরিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন অপু। ৮৭ রানে সাত উইকেটের পতন ঘটে ঢাকার।

ক্যাপ্টেন সাকিবের পর হাল ধরে একাই রানের চাকা ঘোরানোর চেষ্টা করেন জহুরুল ইসলাম। সুনিল নারায়নকে নিয়ে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। দলীয় ১২৯ রানের মাথায় ১৪ রান করে উডানার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সুনিল।

৩ রান যোগ হতেই উডানাকে সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ৫০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান জহুরুল ইসলাম। ১৩২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসে ঢাকা। শেষ দিকে হায়দার ৯ ও খালেদ ৮ রানে অপরাজিত থেকে হারের ব্যাবধান কমান। ১৪৯ রানে শেষ হয় ঢাকার ইনিংস। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নারা হেরে যায় ৫৭ রানে।

আর এভাবেই শেষ হয় ঢাকার ইনিংস। উল্লাশে ফেটে পড়ে মিপুরের গ্যালারী। প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তোলে রংপুর। আর চতুর্থ বারের মত মাশরাফির হাতে ওঠে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২০৬ রান তোলে মাশরাফির রংপুর। বিপিএলের ইতিহাসে নিজেরই করা সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে ৬৯ বলে ১৪৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন গেইল। স্ট্রাইক রেট ২১১.৫৯। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১৮টি ছক্কার মার।শতক পূরণ করেন ৫৭ বলে। শিরোপা লড়াইয়ে গেইলকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৪৩ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

সর্বোচ্চ রানস্কোরারের তালিকায় নাম্বার ওয়ান পজিশনে উঠে এসেছেন গেইল। ১১ ম্যাচে দুই ফিফটি ও দুই সেঞ্চুরিতে তার রান ৪৮৫।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লসকে (৩) ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন সাকিব। এরপর ঢাকার বোলারদের ওপর দিয়ে রীতিমতো স্টিমরোলার চালান এই হারড হিটার ব্যাটসম্যান। ম্যাককালামকে নিয়ে গড়েন ২০১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

বিজনেস আওয়ার / ১২ ডিসেম্বর / এমএএস

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে