ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » শেয়ারবাজার » বিস্তারিত


eid-ul-fitor-businesshour24

ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

গ্যাসের সরবরাহে কাঙ্খিত লক্ষ্যে মুন্নু সিরামিক

আপডেট : 2018-02-17 16:21:13
গ্যাসের সরবরাহে কাঙ্খিত লক্ষ্যে মুন্নু সিরামিক

মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান : বিদায়ী বছরের শেষ দিকে গ্যাসের চাপ পূর্বের তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। গ্যাসের চাপ বাড়ায় কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মুন্নু সিরামিকের উৎপাদন। জ্বালানির এ সহায়ক ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ। ভোগান্তিতে থাকা উৎপাদন নিয়ে কোম্পানির কর্তারা কোনো ভাবেই মেলাতে পারছিলেন না হিসেব নিকেষ।

বর্তমানের পরিস্থিতিতে চৌকস এ কর্মকতার রয়েছে বর্ণিল অভিজ্ঞতার ঝাপি।মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ ঢাকা সিটি কলেজ থেকে স্নাতকের পর ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে পেশাগত ডিগ্রি চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সি (সিএ) সম্পন্ন করে বেঙ্গল গ্রুপে যুক্ত হয়ে ১৯৯৮ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। নতুন পথের যাত্রী হয়ে ২০১১ সালে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে যোগদান করেন।

বর্তমান শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ বলেন, শেয়ার দর বাড়ার পেছনে কোম্পানির কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই। কারন কর্তৃপক্ষরা শেয়ার ব্যবসা করে না। তাই শেয়ার দর বাড়া-কমা শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি সিএফও প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন বিজনেস আওয়ারের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। পাঠকদের জন্য সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

বিজনেস আওয়ার : মুন্নু সিরামিক সম্পর্কে বলুন?

মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ: শুধু দেশে নয়, বিশ্ববাজারে মুন্নু সিরামিকের পন্যের সুনাম রয়েছে। বেশ সুনামের সঙ্গে কোম্পানিটি ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক আধুনিক ও রুচি সম্মত পন্যের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কাঙ্খিত গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়। এই সংকট কারনে শূন্য পিএসআইতে নেমে এসে কোম্পানির উৎপাদন। চরম বাধা সৃষ্টি হয় কাঙ্খিত উৎপাদনে। ফলে মুন্নু সিরামিকের উৎপাদন কমে বিক্রয়ে ধস নামে। এর প্রভাবে কোম্পানির মুনাফা বহুগুন কমে যায়। কিন্তু বর্তমান সরকারের সহায়তায় ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহে উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহে কারনে আবারও দাপটের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মুন্নু সিরামিক।

বিজনেস আওয়ার : কাঙ্খিত গ্যাস সরবরাহে উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধি , বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন?

মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ: সিরামিক পণ্যের উৎপাদন ও গুণগত মান গ্যাসের চাপের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন কম হয়। সেই ক্ষেত্রে উৎপাদনের খরচ কমে না, বরং বাড়ে। অপরদিক সময়মতো গ্যাসের চাপ থাকলে উৎপাদন বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ কমে মুনাফা বাড়ে।

গত দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ১৭) বা ৩ মাসের আর্থিক প্রতিবেদন হিসেবে মুন্নু সিরামিক গ্যাসের চাপ ভালো পেয়েছি। এজন্য উৎপাদন বেশি হয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন খরচ কমেছে। এতে পণ্যের গুণগত মান রক্ষা করে ভালো দাম পেয়েছে। এসব কারণে আমাদের ওই তিন মাসে মুনাফা হয়েছে দেড় টাকা। যা আগের বছরের একই মুনাফা ছিল ৫ পয়সা। এসময়ের মধ্যে মুন্নু সিরামিকের মুনাফা বেড়েছে ১.৪৫ টাকা।

বিজনেস আওয়ার : কাঙ্খিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরনে আপনাদের পদক্ষেপগুলো বলুন?

মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ: বিদায়ী বছর সিরামিক পণ্যর কাঙ্খিত উৎপাদনে লক্ষ্যে বেশকিছু অত্যাধুনিক মেশিন বসানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ মেশিন জার্মানি থেকে আমদানি করা হয়। কিছু মেশিন তাইওয়ান থেকেও আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু মেশিন চালু হয়েছে। ফলে উৎপাদন বেড়েছে। আবার ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক বিদায়ী বছরে নতুন তিনটি পণ্য ছাড়াও নতুন ডিজাইন ও রংয়ের পণ্য বাজারজাত শুরু হয়েছে। এধারা অব্যাহত থাকলে নতুন বাজার তৈরি করা সম্ভব হবে। আবার নতুন বাজার তৈরিতে আরও কিছু নতুন মেশিন আমদানি করার প্রক্রিয়া চলছে। এ মেশিনগুলো পুরোপুরি চালু হলে উৎপাদন বহুগুন বেড়ে যাবে। তখন মুন্নু সিরামিকের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বিজনেস আওয়ার : বিশ্ববাজারে মুন্নু সিরামিকের পরিধি বাড়াতে আপনাদের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বলুন?

মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ : দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে মুন্নু সিরামিকের পন্যের বাজার বড় হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আধুনিক ও রুচি সম্মত পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি ভারত ও ব্রাজিলের বাজারে নতুনভাবে পণ্য সরবরাহ ইতোমধ্যে শুরু করেছি। ফলে দিন দিন বিশ্ববাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

বিজনেস আওয়ার : ভবিষ্যতে যদি গ্যাসের চাপ কমে যায়, সেই পরিস্থিতি মোকাবেলার আপনাদের পরিকল্পনা?

মো. ফয়েজ মাহফুজ উল্ল্যাহ: হ্যাঁ পরিকল্পনা করেছি। ভবিষ্যতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে সেই পরিস্থিতি মোবাবেলায় আমরা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এলপিজি প্রকল্প করারকাজ হাতে নিয়েছি। অতীতের মতো গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে মুন্নু সিরামিকের উৎপাদনে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেটা মাথায় রেখেই এ প্রকল্পের কাজ চলছে। এছাড়াও বর্তমানে সিরামিক পণ্য ১৮ ঘণ্টা পোড়াতে হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন আধুনিক মেশিন আমদানি করা হবে, যাতে ছয় ঘণ্টা পোড়ালেই গুণগত মান বজায় থাকবে। কারন মুন্নু সিরামিক সবসময়ই গুণগত মান নিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিজনেস আওয়ার/১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/এমএজেড

পাঠকের মতামত: