ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

নবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা

আপডেট : 2018-12-25 08:32:24
নবাবগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থানরত হোটেল এবং গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেচ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। হামলায় প্রায় ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা শামীম গেষ্ট হাউসে এ হামলা হয় বলে জানা গেছে।

ভাংচুর করা হয়েছে ১৮টি গাড়ি ও হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন যুগান্তরের সাংবাদিক শামীম খান। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে গেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিকরা।

সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখে গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় স্থানীয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ন্যক্কারজনক এ ঘটনা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে থানা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেননি।

অথচ থানার কাছেই এ গেস্ট হাউস অবস্থিত। তবে এক ঘণ্টা পরে পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। ওই সময় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। এর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনী জনসভা ও নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা, ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

গেস্ট হাউসে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে নবাবগঞ্জে অবস্থানরত যমুনা টিভির সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা বলেন, অতর্কিত ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের হোটেলে হামলা চালায়। আমরা থানা নির্বাহী অফিসার এবং ওসিকে জানালেও কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। গণমাধ্যমকর্মীরাই যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে এখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়?

হামলার ঘটনায় যুগান্তরের বিশেষ প্রতিবেদক মিজান মালিক বলেন, হামলাকারীরা ১৩ থেকে ১৪টি কক্ষে ভাংচুর করেছে। এ সময় তাদের হাতে ছিল রামদা, হকিস্টিক ও স্টিলের লাঠিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

হামলাকারীরা কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে হামলা চালায়। তারা মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারসহ প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি বিভিন্ন মডেলের গাড়ি ভাংচুর করে। ওই হোটেলে যুগান্তর ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৪০ থেকে ৪৫ জন সাংবাদিক ছিলেন।

জানা গেছে, নবাবগঞ্জে শামীম গেস্ট হাউসের সামনে সোমবার হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরি করা হয়। তারপর রাতেই ন্যক্কারজনক এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা গালাগাল করে আর হুমকি দেয় যে, তোরা কার জন্য কাজ করতে এসেছিস। তোদের মেরে ফেলব।

যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার ইয়াসিন রহমান বলেন, আমরা কয়েকজন চা খাওয়ার জন্য হোটেল থেকে নিচে নামি। এ সময় সিঁড়ি থেকেই শোনা যায় নিচে হট্টগোলের শব্দ। আমরা প্রথমে মনে করেছি আরও নতুন কোনো সাংবাদিক হয়তো হোটেলে আসছেন তাদের জন্যই এ হট্টগোল।

কিন্তু নিচে গিয়ে দেখি রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রসহ মুখোশপরা কয়েকজন যুবক উপরের দিকে হামলার জন্য আসছে। আমরা তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দৌড়ে উপরে উঠে যাই। এরপর সন্ত্রাসীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক হামলা-ভাংচুর চালায়।

শামীম গেস্ট হাউসের ম্যানেজার মো. জুয়েল জানান, সন্ত্রাসীরা তার ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা করে। তাকে ব্যাপক মারধর করে তার মোবাইল ফোন সেটটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা গেস্ট হাউসের টিভি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং তাণ্ডব চালায়।

তিনি বলেন, সশস্ত্র হামলাকারীদের ভয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই ঘটনার পর শামীম খান নামে একজন সাংবাদিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি হোটেলেই ছিলেন এবং হামলাকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

যুগান্তরের সাংবাদিক শিপন হাবীব জানান, এটা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

যমুনা টিভির সাংবাদিক আবদুল্লাহ তুহিন বলেন, সকালে পুলিশ সুপারের কাছে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা জানিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, যে গেস্ট হাউসে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে নবাবগঞ্জ থানার দূরুত্ব সামান্যই। থানার এত কাছাকাছি সন্ত্রাসীরা হামলা করে যাওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে অনেক সময় নিয়েছে। এ ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আজহারুল হক বলেন, বিকেলে যমুনা টিভি ও যুগান্তর পত্রিকার প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক নবাবগঞ্জে আসেন। তারা উপজেলার কলাকোপা এলাকায় শামীম গেষ্ট হাউস ভাড়া নেন।

সেখানে অবস্থানকালে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা গেষ্ট হাউসের সামনে থাকা প্রায় ১৬ টি গাড়ি ভাঙচুর করে। গাড়ি ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক নিচে নেমে আসলে তাদেরকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। আর ঘটনার পর থেকে ধামরাই এলাকার যুগান্তরের সাংবাদিক শামীম খানকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেটা ঘটেছে সেটা কারো কাম্য নয়। কোনোভাবে যাতে শান্তিশৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিজনেস আওয়ার/২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: