ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন মুদ্রানীতি আসছে

আপডেট : 2019-01-22 09:00:28
বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন মুদ্রানীতি আসছে

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বিনিয়োগ বাড়াতে আসছে নতুন মুদ্রানীতি। নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ মাথায় রেখে প্রবৃদ্ধি সহায়ক নতুন এই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে মধ্যে রাখার লক্ষ্য থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ওই অর্থবছরে অর্জিত হয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৪৬ শতাংশ বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে মুদ্রানীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মুদ্রানীতির মাধ্যমে ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ থাকবে। ফলে ঋণের সুদের হার কমে আসবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগে যে মন্দা যাচ্ছে, তা কাটাতেই এবারের মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করা হবে। তবে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে মধ্যে রাখার লক্ষ্য থাকবে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তৈরি সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

জানা গেছে, মুদ্রানীতি নিয়ে ইতোমধ্যে তিন দফায় প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগামী পর্ষদের বৈঠকে মুদ্রানীতির খসড়াটি উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ এটি অনুমোদন করলে ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভা ২৬ অথবা ২৭ জানুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর ’১৮) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। যদিও ব্যাংকগুলোতে টাকার সংকট ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন নিম্নমুখী।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ডিসেম্বরের প্রবৃদ্ধি গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় ২০১৫ সালে এমন পরিস্থিতি ছিল।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে খুব বেশি ভূমিকা থাকে না। তবে সরকারের কাছে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি প্রত্যাশা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর দুই বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। একটি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে। সাধারণত মুদ্রার গতিবিধি প্রক্ষেপণ করে এই মুদ্রানীতি।

বিজনেস আওয়ার/২২ জানুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: