ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস আইএমএফ'র

আপডেট : 2019-01-23 13:40:12
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস আইএমএফ'র

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই আশঙ্কায় চলতি বছরের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়েছে সংস্থাটি।

তারা বলছে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গত অক্টোবরে যা ৩ দশমিক ৭ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমএফ। ২০২০ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। গত অক্টোবরে যা ৩ দশমিক ৭ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি শ্লথ রয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আইএমএফ। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্লল্ড ইকোনমিক ফোরামের চার দিনব্যাপী সম্মেলনকে সামনে রেখে আইএমএফ বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি শ্লথ হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ ইতিমধ্যে এই শ্লথগতিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ব্র্রেক্সিটের অনিশ্চয়তা, বড় অর্থনীতির দেশগুলোর আর্থিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ব অর্থনীতির গতি চলতি বছর শ্লথ থাকবে।

শুল্ক পাল্টা শুল্কের চাপে চীনের নিজের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি বছর ও আগামী বছরে চীনের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে মনে করছে আইএমএফ। গত বছরের তুলনায় কমবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধিও।

চলতি বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও আগামী বছর আরও কমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। এ ছাড়া ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। আপাতত এই বছর ও আগামী বছর দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিলেও এতে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দেয়নি আইএমএফ। তবে গত ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

আইএমএফের এ পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের চেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে এডিবি তাদের সর্বশেষ প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতাংশ হবে বলে প্রলন করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তার আশা. এবার ৮ শতাংশে পৌঁছাবে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে এশিয়ার উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২০ সালে তা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। ভারতে ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে ঠেকবে।

ভারতের ক্ষেত্রে আইএমএফ জানিয়েছে, তেলের দাম কমা, সুদহার কমার সম্ভাবনা ও মূল্যবৃদ্ধি তলানিতে থাকার সুবিধা নিয়েই এ বছর ভারতের অর্থনীতি গতিশীল থাকবে। চলতি বছর জাপানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

আইএমএফের নতুন এই মূল্যায়ন উন্নত অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষত ইউরো জোন। এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। সংস্থাটি বলছে, উঠতি অর্থনীতি এবং উন্নয়নশীল ইউরোপের অবস্থা বেশ নাজুক হবে চলতি বছর।

ইইউ পরিবেশমন্ত্রীদের নির্গমন কমানোর নতুন লক্ষ্যমাত্রা জার্মানির মোটরশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া ইতালিকে নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির ধারা ঊর্ধ্বমুখী থাকছে ল্যাটিন আমেরিকায়।

বিজনেস আওয়ার/২৩ জানুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: