ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

জনতার লোকসানি শাখা বাড়লেও কমেছে রূপালীর

আপডেট : 2019-01-26 10:21:09
জনতার লোকসানি শাখা বাড়লেও কমেছে রূপালীর

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা বেড়েছে। বছর শেষে ব্যাংকটির লোকসানি শাখা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩১টি তে। আনন টেক্স ও ক্রিসেন্ট লেদারের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে এক বছরের ব্যবধানে জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখার সঙ্গে বেড়েছে খেলাপি ঋণও।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, লোকসানি শাখা কমানোর জন্য সরকারি ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে নতুন শাখা খোলা বন্ধ করতে হবে। শাখা না খুলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উপর জোর দিতে হবে। এজন্য মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে দক্ষতা ব্যবস্থাপনা দরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে অগ্রণী, সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৬টিতে। ২০১৭ সাল শেষে এসব ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ৩৫১টি। এ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৯৫টি।

তিনবছর ধরে লোকসানি শাখা কমানোর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে একমাত্র রূপালী ব্যাংক। ২০১৬ সালে ব্যাংকটির ১৪৩টি লোকসানি শাখা থাকলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে লোকসানি শাখার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩টিতে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮টিতে।

এ ব্যাপারে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান বলেন, দুই বছর আগে ২০১৭ সালে বার্ষিক সাধারণ সভায় বলেছিলাম, ২০১৯ সালের মধ্যে আমরা শীর্ষ ব্যাংকের স্থান দখল করবো। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে যাওয়ার।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, সোনালী ব্যাংক সরকারে পক্ষে জনগণকে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছে। দেশব্যাপী সোনালী ব্যাংকের শাখার পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি। আমাদের অনেক শাখা আছে, যেখানে শুধু জনসেবা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে ব্যবসা করা যাচ্ছে না। তারপর চেষ্টা করছি লোকসানি শাখা কমিয়ে আনার।

এদিকে আনন টেক্স ও ক্রিসেন্ট লেদারের মত বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে বেকায়দায় পড়েছে এক সময়ের সবচেয়ে লাভজনক সরকারি ব্যাংক জনতা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির লোকসানি শাখা ৫৭টি থাকলেও এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে। বছর শেষে জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা বেড়েছে ৩১টি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল শেষে অগ্রণী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ৮০টি। এক বছর পর ব্যাংকটির লোকসানি শাখা কমেছে মাত্র ৫টি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা ৭৫টি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখা কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে। গত কয়েক বছর ধরে লোকসানি শাখা কমার ধারাবাহিকতায় রয়েছে। আশা করছি এক সময় আর লোকসানি শাখা থাকবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে চার ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ৩৫১টি। বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ১৮১টি থাকলেও ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংক ৮৮টি লোকসানি শাখা কমাতে পেরেছে। বছর শেষে সোনালী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩টিতে।

বিজনেস আওয়ার/২৬ জানুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: