ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিস্তারিত


eid-ul-fitor-businesshour24

ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

কুমিল্লায় ট্রাকচাপায় নিহতদের লাশ হস্তান্তর

আপডেট : 2019-01-26 13:48:08
কুমিল্লায় ট্রাকচাপায় নিহতদের লাশ হস্তান্তর

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ট্রাকচাপায় নিহত শ্রমিকদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নীলফামারীর জলঢাকায় কর্ণময়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন।

লাশ বিতরণকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদৌলা, ওসি মোস্তাফিজার রহমান, মীরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান, শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক প্রমূখ।

এদিকে লাশ আসার সংবাদে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকে স্কুল মাঠে ভীর জমায়। সকাল ৮টার কিছু পরে লাশগুলোকে স্কুল মাঠে পৌঁছলে সেখানে এক হ্রদয় বিদারক ঘটনার অবতারণার সৃষ্টি হয়। নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

এক সাথে এতো লাশের কফিন দেখে সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। এ সময় কফিনগুলো স্বজনদের মাঝে এক এক করে তুলে দেওয়া হয়। পরে কাঁধে লাশের কফিন নিয়ে অশ্রুসজল স্বজনরা যে যার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

দুর্ঘটনায় নিহত বিপ্লব চন্দ্রের পিতা রাম প্রসাদ রায় বিলাপ করতে করতে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, দুনিয়ায় এই বড় একটি কঠিন বিষয়। যখন বাবার কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ উঠে।

মীরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান ও শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক বলেন, একই স্থান থেকে দুই ইউনিয়নের লাশগুলো পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত পরিবারগুলোর দিকে যেন সরকার নজর রাখেন। এতে পরিবারগুলো উপকৃত হবে।

লাশ হস্তান্তর শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদেরকে সহায়তা করা হলো। আগামী দিনগুলোতে নিহত পরিবারগুলোকে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়লাবাহী একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে ইট ভাটার শ্রমিকদের থাকার মেসের ওপর গিয়ে পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে নয়জনের বাড়ী মীরগঞ্জ ইউনিয়নে।

বাকী চারজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে। এরা হলেন- মীরগঞ্জ ইউনিয়নের শংকর চন্দ্র রায় (১৭),প্রশান্ত রায় দিপু (১৬),তরুন চন্দ্র রায় (১৬),রঞ্জিত কুমার (৩০), অমিত চন্দ্র (১৯), বিপ্লব চন্দ্র (১৫),সেলিম (১৫),মাছুম (১৬),মোরসালিন (১৫) শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কনক (৪০),বিকাশ (৩২),মনোরঞ্জন (১৭) ও মৃণাল (১৫)। এরা অধিকাংশই স্কুল পড়ুয়া ছাত্র।

বিজনেস আওয়ার/২৬ জানুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: