ঢাকা, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

আরও শক্তিশালী হচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ

আপডেট : 2019-01-29 11:14:23
আরও শক্তিশালী হচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : স্বর্ণ চোরাচালান ও অর্থ পাচারের মতো বড় বড় দুর্নীতি আর অনিয়ম রোধে শুল্ক গোয়েন্দাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংস্থাটির জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ বর্গফুট স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আসামিদের রিমান্ড কক্ষ, তদন্তের শুনানি কক্ষ, গোপন সংবাদদাতা ও দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক ওয়েটিং রুম, মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণাগার, আটক গাড়ি রাখার স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জনবল বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, যেখানে অন্য ভ্যাট কমিশনারেট বা কাস্টমস হাউসগুলো নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে কাজ করে, সেখানে শুল্ক গোয়েন্দা সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

স্বর্ণ চোরাচালান, অর্থ পাচার, বন্ডের দুর্নীতি, শুল্কমুক্ত সুবিধায় মূল্যবান গাড়ি আমদানির মতো দুর্নীতি অনুসন্ধান করে। এসব কাজ পরিচালনায় পর্যাপ্ত জনবল শুল্ক গোয়েন্দার নেই। এমনকি অর্গানোগ্রামের চেয়েও জনবল কম রয়েছে। তারপরও সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করছে প্রতিটি সদস্য।

তিনি আরও বলেন, এখন দুর্নীতি-অনিয়মের অনেক তথ্য আসছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো খতিয়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে না। রুটিন কাজ করাই দুষ্কর হয়ে পড়ছে। জনবল ও লজিস্টিক বৃদ্ধির মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন স্থান বরাদ্দ পাওয়ায় একটি সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন জনবল পাওয়া গেলে চোরাচালান রোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে শুল্ক গোয়েন্দা। বর্তমান অর্গানোগ্রামের চেয়ে লোকবল কম আছে।

জানা গেছে, বর্তমানে কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের নবম তলায় প্রায় ১১ হাজার বর্গফুটের জায়গায় শুল্ক গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এখানে সঠিকভাবে গোয়েন্দা কাজ পরিচালনার স্থানের অভাব রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা নতুন স্পেস বরাদ্দের জন্য আবেদন করে।

গত ৯ ডিসেম্বর সংস্থার অনুকূলে স্থাপত্য অধিদফতর প্রায় ১ লাখ বর্গফুট নতুন স্থান বরাদ্দ দিয়েছে। যেখানে আটক মালামাল সংরক্ষণে ৩ হাজার বর্গফুট, আটক গাড়ি সংরক্ষণে সাড়ে ১৫ হাজার বর্গফুট, নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ে ৫ হাজার ৩২০ বর্গফুট, ইনহাউস প্রশিক্ষণে ২৪শ' বর্গফুট, তদন্তের শুনানি কক্ষ, আসামির রিমান্ড কক্ষ, গোপন সংবাদদাতা কক্ষ, নমুনা সংরক্ষণ কক্ষ, দর্শনার্থী কক্ষ, ডে-কেয়ার সেন্টার ও হাজতখানার জন্য স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, হেলিকপ্টার, ফরেনসিক ল্যাব ও উচ্চ প্রযুক্তির গোয়েন্দা সামগ্রী অনুমোদন চেয়ে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে র‌্যাব ও বিজিবির মতোই দেশজুড়ে অভিযান চালাবে সংস্থাটি।

প্রস্তাবটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বিবেচনাধীন রয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য র‌্যাবের সঙ্গে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি একটি পূর্ণাঙ্গ ডগ স্কোয়াড গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযান, রিমান্ডসহ গোয়েন্দা কাজে ব্যবহারের জন্য শুল্ক গোয়েন্দার জন্য একটি সশস্ত্র ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা হাতকড়া কেনা ও তা চোরাকারবারিদের পরানোর অনুমতি চেয়ে এনবিআরে চিঠি দেয়। যাতে বলা হয়েছিল, চোরাচালানের দায়ে সন্দেহভাজন পাচারকারীকে আটক এবং আটকপরবর্তী মালামাল শুল্ক গুদামে জমা দেয়াসহ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে আসামিদের থেকে অবৈধ পণ্য উদ্ধারে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেয়া ও এক্সরেসহ অন্যান্য স্ক্রিনিং করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আনা-নেয়া, থানায় নেয়ার ক্ষেত্রে আসামিরা যাতে পালাতে না পারে, সেজন্য সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের হ্যান্ডকাফ পরানো জরুরি।

বিজনেস আওয়ার/২৯ জানুয়ারি, ২০১৮/এমএএস

পাঠকের মতামত: