ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

বাসা বদলের ঝামেলা কমাতে করণীয়

আপডেট : 2019-01-29 17:31:29
বাসা বদলের ঝামেলা কমাতে করণীয়

বিজনেস আওয়ার ডেস্কঃ বাসা বদল করা অসম্ভব বিরক্তিকর এবং কষ্টসাধ্য একটি কাজ। অনেকেই ডিসেম্বর মাসেই নিজেদের বাসা বদল করে ফেলেছেন। বাকিরা হয়তো এই জানুয়ারির শেষেই করে ফেলবেন। ১৯৬৭ সালে মনোবিজ্ঞানী থমাস হোমস এবং রিচার্ড রে নিজেদের একটি অনুসন্ধান প্রকাশ করেন। যার মূল বক্তব্য ছিল এই যে, মানুষের জীবনের প্রত্যেকটি কাজই তার মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে।

এই তালিকায় ১০০ ভাগের মধ্যে শতকরা ২৫ শতাংশ চাপের কথা বলা হয় বাসা বদলের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, এই বাসা বদলের পেছনে যদি বিচ্ছেদের মতো কোনো ব্যাপার থাকে তাহলে সেটি হয়ে পড়ে আরও বেশি কষ্টসাধ্য।

তবে হ্যাঁ, যদি খুব সাধারণ কোনো কারণেই আপনি বাসা বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলেও আপনি ও আপনার সঙ্গী এই পুরো প্রক্রিয়ায় অনেক সমস্যার মুখোমুখি হবেন। বাসা বদলের সময় ঘটা এই মানসিক চাপ, বিরক্তি ও ছোটোখাটো সমস্যাগুলোর মোকাবেলা করতে মাথায় রাখুন এই ছোট্ট কিছু কৌশল-

১. বাসা বদলের আগে সঙ্গীর সাথে বসুন এবং কথা বলুন। এই সময়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটবে যার ফলে আপনার মানসিক অবস্থা ভালো না থাকতেই পারে। আপনি হয়তো খুব রেগে যেতে পারেন, তার প্রভাব পড়তে পারে আপনাদের সম্পর্কেও। তাই আগে থেকেই এ ব্যাপারে দুজন কথা বলে নিন।

২. কোনো কিছু আকড়ে না থেকে যে জিনিসগুলো আপনার লাগবে না, সেগুলো ফেলে দিন। অনেকেই ছোট বাটি থেকে শুরু করে পুরোনো কাপড়- কোনটাই ছাড়তে রাজি হন না বাসা পাল্টানোর সময়। এই অভ্যাসটিকে পাশে রেখে যেগুলো আপনার ফেলে দেওয়া দরকার সেগুলো ফেলে দিন। এতে করে আপনার পুরো কাজটা সহজ হয়ে যাবে।

অনেকে উল্টো কাজটা করেন। তারা যেকোনো জিনিস বহন করতে ইচ্ছে না করলেই বাতিল করে দেন। খুব দামি জিনিস হলেও পরোয়া করেন না। সময় নিন। তাড়াহুড়ো না করে আসলেই কোন জিনিসটি আপনার বহন করা দরকার, কোনটি দরকার না সেটা ঠিক করুন।

৩. অনেকেই শেষ সময়ে এসে জিনিসপাতি প্যাক করেন। ফলে, অনেক দামি জিনিস বাজেভাবে বহন করা হয়। এতে অনেক জিনিস ভেঙে যায়, ছিড়ে যায়। কোনো দরকারি জিনিসের কথাও ভুলে যান অনেকে বাসা পাল্টানোর সময়। তাই সময় নিয়ে প্যাকিং করুন। একটু একটু করে একেকটি বাক্সে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন।

৪. প্যাকিং শেষে বক্সের ওপরে লিখে নিন কোথায় কোনো জিনিসটি আছে। প্রয়োজনে বিস্তারিত লিখুন। এমন না যে, ‘রান্নাঘরের জিনিস’ লিখলেই আপনি সেখানে কফি মেকার পাবেন। তাই প্রতিটি জিনিসের বাক্সের গায়ে আলাদা করে নাম লিখে নিন। পরবর্তী সময় খুঁজে পেতে সহজ হবে।

৫. আপনি যাদের কাছে জিনিসপাতি বহন করার দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখবেন না। ধরেই নিন যে, কিছু জিনিস ভাঙবে বা কোনো সমস্যা হবে। খুব মূল্যবান কিছু হলে সেটা নিজের সাথেই রাখুন বা বহনের সময় সাথে থাকুন।

৬. এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার সময় যদি রাতে কোথাও থাকতে হয়, তাহলে দরকারি কোনো কিছুই গাড়িতে ফেলে যাবেন না। আপনি যেখানে যাচ্ছেন, জিনিসপাতিও সঙ্গে নিয়ে যান। অন্যথায় দরকারি কোনো কিছু হারানোর আশঙ্কা থাকে।

৭. একটু কষ্ট হলেও নতুন বাসায় উঠেই সবকিছু গুছিয়ে নিন। যে জিনিস যেখানে থাকার কথা সেখানেই রাখুন। পরিশ্রম একদিন বেশি হবে। তবে তারপর আর বাড়তি কাজের এই ব্যাপারগুলোকে টেনে নিতে হবে না।

এই কাজগুলো আপনার বাসা বদলে ঝামেলা একেবারে কমিয়ে দেবে না। তবে কিছু সাহায্য অবশ্যই করবে। তাই, দেখুনই না একবার চেষ্টা করে।

সূত্র : সাইকোলজি টুডে

বিজনেস আওয়ার/২৯ জানুয়ারি,২০১৯/আরআই

পাঠকের মতামত: