ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

অদালতের রায় অমান্য করে পুলিশের স্যামনেই জমি দখল

আপডেট : 2019-02-04 10:46:05
অদালতের রায় অমান্য করে পুলিশের স্যামনেই জমি দখল

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: অদালতের রায় অমান্য করে পীরগঞ্জ উপজেলার প্রথমডাঙ্গা গ্রামে জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গ্রামবাসী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই আওয়ামী লীগের কর্মী দাবি করা সন্ত্রাসী সেলিমের নেতৃত্বে দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় মান্না-মমতাজ গংরা।

এ ঘটনায় রংপুর আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। এর নায্য বিচার চেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথমডাঙ্গা গ্রামের মৃত সেরাজ উদ্দিনের চার পুত্র মান্না গংদের বাড়ির সঙ্গে লাগানো ১২০৫, ১২০৬ ও ১২০৭ নং দাগে ৭২ শতকের মধ্যে ৩৮ শতক হামিদ ও হালিম মিয়ার ভিটা জমি রয়েছে (এর মধ্য হামিদ মারা গেছে)। মূলত কাগজে-কলমে মান্নারা ৩ শতক জমির মালিক। কিন্তু দখলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুরো ৭২ শতকই দখল করে আসছিল।

জমিটি গ্রাম্য সালিশে ফিরিয়ে না দিলে, ২০০৭ সালে পীরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা করেন হালিম। যার নং ৭০১/০৭।

ওই মামলায় ২০১০ সালে বাদী হালিম ডিক্রি লাভ করেন। ওই ডিক্রি জারি মামলায় বিজ্ঞ আদালত কমিশন নিয়োগ করে ২০১৬ সালের ৯ই মে জমির দিক ও সীমানা নির্ধারণ করে ঢাক-ঢোল পিয়ে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে জমির দখল হালিম বরাবর বুঝিয়ে দেয়া হয়। এর পর হালিম মিয়া জমিতে বেড়া দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ ও ফসল লাগিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করে আসছিলেন।

হঠাৎ করে গত ১১ই জানুয়ারি সেলিমের নেতৃত্বে ও পুলিশের সহায়তায় জমিটি দখল করে নেয় মান্নারা। দখলকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র লাঠি, কুড়াল, কোদাল, বল্লম নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় জমিতে থাকা গাছ ও ফসল ধংস করে। এতে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিদস্যুরা হালিমকে হত্যার হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই জানে আলম, আফজাল ও মাহমুদুর।

জানা গেছে, সেলিম দলিল লেখক হিসেবেও পরিচিত। সে জাল দলিল তৈরি করে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। হালিমের জমির বিষয়েও একটি জাল দলিল তৈরি করে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেছে বলেও তার রিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জমির মালিক হালিম মিয়া বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ ও সেলিম আমার কাছে আসে। বলে- ‘তোর জমির দলিল বের কর। তোর বাপ জমি কিনছিল? তুই কিসের জমি পাবি।’ এ ছাড়া এ সময় তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। অথচ সেলিমের এখানে কেনো ভূমিকা রাখার কথা নয়।

হালিম মিয়া জানান, এখন আমি খুবই নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছি। এমনকি দখলকারী সন্ত্রাসীরা নিজেদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে আমার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এর আগেও নিজেদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে আমাদের উপর মামলা করেছিল বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। থাকতে থাকতেই মান্নারা জমি দখল করে নিয়েছে।

স্থানীয় ১০ নম্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মন্টু) বলেন, সেলিমের কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমি অনেকবার তাকে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছি। কিন্তু সে শোনেনি। উল্টো দলের উপজেলা নেতৃবৃন্দের কাছে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। এ ছাড়া একই দলের হওয়ায় সব সময় কিছু বলতে পারি না। এজন্য সেলিম কোনো স্থানে থাকলে আমি ওখানে থাকি না।

বিজনেস আওয়ার/০৪ ফেব্রুয়ারি,২০১৯/আরআই

পাঠকের মতামত: