ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৮ আষাঢ় ১৪২৬
sristymultimedia.com

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বিস্তারিত


ss-steel-businesshour24

Runner-businesshour24

অসাধু ব্যবসায়ীদের হুশিয়ারি অর্থমন্ত্রীর

আপডেট : 2019-02-06 13:12:21
অসাধু ব্যবসায়ীদের হুশিয়ারি অর্থমন্ত্রীর

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা দায়ী। এ রকম ব্যাবসায়ীদের তিন বার করে সাবধান করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এছাড়া এই অসাধু ব্যবসায়ীদের যে সব ব্যাংক কর্মকর্তা সাহায্য করে আসছে তাদের বিরুদ্ধেও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন থেকে এদের আর কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (কেআইবি) রূপালী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এ এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এটা একটা বড় ধরনের ক্রাইম। জনগণের কষ্টের টাকার সঠিক ব্যবহার করে দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এই টাকা আটকিয়ে যারা ঋণ খেলাপি বাড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।

খেলাপি ঋণ বাড়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের কিছু অসাবধানতাই প্রধান কারন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন খাতে এই টাকা ব্যাবহার করা হবে সে ব্যপারে লক্ষ রাখতে হবে। যে খাতে এই ঋণের টাকা ব্যাবহার করা হবে ১০ বছর পর যদি তার কোন অস্তিত্ব না থাকে তাহলে সে টাকা কখনো ফেরত আসবে না। তাই ঋণ দেওয়ার পর গ্রহীতার সাথে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরও বেশি যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে বলে পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

ঋণ খেলাপিদের হুশিয়ারি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ফেরত না দেবার উদ্দেশ্য নিয়েই যে সকল আসাধু ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে টাকা তুলেন তারা সাবধান, সাবধান, সাবধান। তাদের জন্য এখন দুর্দিন চলে এসেছে। তাদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। সে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটাই করা হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের যে সকল কর্মকর্তা এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর যারা আসলেই ব্যবসা করার জন্য ঋণ নেয় তাদের কথা ভিন্ন। মাঝে মাঝে ব্যবসার সময় যখন খারাপ যায় তখন খেলাপিতে পরিণত হয়, কিন্তু পরে ব্যবসা ভালো হলে তারা টাকা ফেরত এদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। এছাড়া প্রতিটি ব্যাংকের জন্যে বিশেষ অডিট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।'

মুস্তফা কামাল আফসোস করে বলেন, আমরা ছোট দেশ বলে জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহন করতে পারিনা। অথচ গত ১০ বছরে আমরা ৫৮ থেকে ৪১ তম অর্থনীতির দেশে পৌছাতে পেরেছি। এখন আমাদের লক্ষ হল, আগামী ২১ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আরও ২১ টি দেশকে পেছনে ফেলা। সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। অবশ্যই ২০৪১ সালে আমরা এটা বাস্তবায়ন করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, রুপালী ব্যাংকের অপারেটিং প্রফিট ডিসেম্বরে ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আশা করছি স্যামনে আরও ভাল প্রফিট আসবে। সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এছাড়া এবছর লোকসানি ব্যাংকের তালিকায় নাম না থাকায় রূপালী ব্যাংককে অভিনন্দন জানান ফজলে কবির।

রুপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ২০১৬ সালে যখন বর্তমান ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব নিয়ে যাত্রা শুরু করে তখন রুপালী ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা লোকসানে ছিল। সেই লোকসান কাটিয়ে ২০১৭ সালে ৫৪১ কোটি এবং ২০১৮ সালে ৩৭০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। ২০১৬ সালে লোকসানি শাখার সংখ্যা ছিল ১৪৪ টি, ২০১৭ সালে তা কমে এসেছে ৩০০ টি আর সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৯৫ শতাংশ কমে এসেছে মাত্র ৮ টি তে। তিনি বলেন, মুনাফা নয়, জনগণের দারগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনসহ রূপালী ব্যাংকের শাখা পর্যায়ের ম্যানেজার ও কর্মকর্তারা।

বিজনেস আওয়ার/০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/আরআই/এমএএস

পাঠকের মতামত: